খুব সহজে ১০ টি খাবারের মাধ্যমে টেস্টোস্টেরন হরমোন বাড়িয়ে নিন।

টেস্টোস্টেরন পুরুষত্বের জন্য দায়ী প্রধান স্টেরয়েড হরমোন যা এন্ড্রোজেন গ্রুপের। মানুষ সহ সকল স্তন্যপায়ী,পাখি সরীসৃপ প্রাণীর শুক্রাশয়ে এটি উৎপন্ন হয়। স্তন্যপায়ী প্রাণীর ক্ষেত্রে পুরুষের শুক্রাশয় এবং নারীর ডিম্বাশয় থেকে উৎপন্ন হয়,যদিও স্বল্প পরিমাণ অ্যাড্রেনাল গ্রন্থি থেকে ক্ষরিত হয়। পেশির সুগঠনের কাজেও সাহায্য করে এই হরমোন। এটি প্রধান পুরুষ হরমোন যা শুক্রাশয়ের লিডিগ কোষ থেকে উৎপন্ন হয়।

পুরুষের জন্য টেস্টোস্টেরন প্রজনন অঙ্গ যেমন শুক্রাশয় বর্ধনের পাশাপাশি গৌণ বৈশিষ্ট্য যেমন মাংসপেশি,শরীরের লোম বৃদ্ধি করে।পুরুষদের মাঝে টেস্টোস্টেরন বিপাক হার নারীদের তুলনায় ২০ গুণ বেশি।এই হরমোন তৈরি হয় অণ্ডকোষে এবং এটাই পুরুষের যৌনক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ করে।

পুরুষের টেস্টোস্টেরন হরমোন বৃদ্ধির উপায়

পুরুষ মানুষের টেস্টোস্টেরন হরমোন অনেক গুরুত্বপূর্ণ। একজন পুরুষের বয়স ত্রিশ বছর পার হওয়ার পর টেস্টোস্টেরন হরমোন কমতে শুরু করে। পুরুষত্বের জন্য দায়ী মূল হরমোন হচ্ছে টেস্টোস্টেরন। স্মৃতিশক্তি হ্রাসের পাশাপাশি কামবাসনা কমে যাওয়া, লিঙ্গোত্থানে সমস্যা, খারাপ মেজাজসহ মনোযোগের অভাবের প্রধান কারণ হল টেস্টোস্টেরন হরমোন কমে যাওয়া।

তবে কিছু স্বাভাবিক খাবার আছে যে গুলি নিয়মিত খেলে টেস্টোস্টেরন হরমোন বৃদ্ধি পায়। সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে নিয়মিত কিছু খাবার খাওয়ার অভ্যাস করলেই উপকৃত হওয়া যায়।

শরীরে টেস্টোস্টেরন হরমোন নিঃসরণ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে সাহায্য করে এমনই কিছু খাবারের তালিকা উপস্থাপন করব। টেস্টোস্টেরন সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে নিয়মিত কিছু খাবার খাওয়ার অভ্যাস করলেই উপকৃত হওয়া যায়।

১। আয়রন বা লৌহ জাতীয় খাবার

আয়রন পুরুষের শরীরে টেস্টোস্টেরন হরমোন বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। শরীরের একটি প্রয়োজনীয় খনিজ উপাদান লৌহ, যা আমিষ-জাতীয় খাবার ছাড়াও উদ্ভিজ্জ খাবার থেকেও পাওয়া সম্ভব। আয়রন একটি গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান, যা শরীরে অক্সিজেন পরিবহনে সাহায্য করে। খাবারে পর্যাপ্ত পরিমাণ আয়রন থাকলে তা শরীরে আয়রনের (লৌহ) অভাবজনিত এনিমিয়া (রক্তস্বল্পতা) প্রতিরোধে সাহায্য করে এবং স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটায়।

২। চর্বি যুক্ত মাছ জাতীয় খাবার

বাংলাদেশে প্রাণিজ প্রোটিনের একটি প্রধান উৎস মাছ। চর্বিযুক্ত মাছ যেমন- স্যামন, ট্রাউট, ম্যাকারেল, সার্ডিন হেরিং ইত্যাদি মাছ খেতে পারেন। এগুলো স্বাস্থ্যকর ওমেগা-থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড, উন্নত মানের প্রোটিন এবং অত্যাবশ্যকীয় পুষ্টি উপাদান সমৃদ্ধ। যারা মাছ খায় তারা সুস্থ থাকে এবং অসুখ হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়। স্নেহ জাতীয় খাদ্য আমাদের শরীরের একটি প্রয়োজনীয় খাদ্য উপাদান যা অনেক দিন পর্যন্ত আমাদের শরীরে অবস্থান করে এবং প্রয়োজনের সময় পুষ্টির যোগান দেয়।

৩। সবুজ শাক সবজি

সবুজ শাক -সবজিতে প্রকৃতির ভিটামিনের প্রচুর ভাণ্ডার রয়েছে। পালং শাক, মরিঙ্গা, এবং বাঁধাকপি তাদের উন্নত ভিটামিনের জন্য পরিচিত। আপনি এই সবজি থেকে ভিটামিন এ, ভিটামিন কে, ভিটামিন ই, ভিটামিন সি, বিটা ক্যারোটিন, ফোলেট, ভিটামিন বি ১, বি ২, বি ৩, বি ৫ এবং বি 6 ভাল পরিমাণে পাবেন । খাদ্যতালিকাগত খনিজের ঘাটতি দূর করতে সাহায্য করে- খাদ্যতালিকাগত ফাইবার সমৃদ্ধ- সবুজ পাতায় ভালো ফাইবার থাকে যা বিভিন্ন স্বাস্থ্য সুবিধা প্রদান করে।

৪। পালংশাক

পালং শাকে রয়েছে মিনারেল, ভিটামিন, ফাইটো নিউট্রিয়েন্টস থেকে শুরু করে পিগমেন্টস। তাই পালংশাককে একরকম ‘সুপার ফুড’ বলা যায়। ওয়েস্ট্রজেনের মাত্রা কমাতে পারে এই শাক। তাছাড়া আছে প্রচুর পরিমাণে ম্যাগনেসিয়াম, ভিটামিন সি এবং ই। আর এসবই টেস্টোস্টেরন তৈরির উপাদান।

৫। ডিম

প্রোটিনের ভালো উৎস হচ্ছে ডিম। ডিম শরীরের জন্য খুবই উপকারী। কেউ হাঁসের ডিম খেতে পছন্দ করেন, কেউ আবার মুরগির। হাঁসের ডিমে একটা আঁশটে গন্ধ থাকায় অনেকেই খেতে চান না। আবার মুরগির ডিমেও অনেকের অরুচি। ডিমে আছে স্যাচারেইটেড ফ্যাট, ওমেগা থ্রিএস, ভিটামিন ডি, কলেস্টেরল এবং প্রোটিন। টেস্টোস্টেরন হরমোন তৈরির জন্য এই উপাদানগুলো জরুরি।

৬। বাদাম ও বীজ জাতীয় খাবার

বাদাম ও বীজ জাতীয় খাবার শরীরে এস্ট্রোজেন এবং টেস্টোস্টেরনের তৈরি হওয়া নিয়ন্ত্রণ করে। এস্ট্রোজেন এবং টেস্টোস্টেরন কামনা ইচ্ছা এবং পারফরমেন্সের জন্য জরুরি। তাই কামনা শ‌ক্তি শুধুমাত্র প্রাকৃ‌তিকভা‌বেই পাওয়া সম্ভব। হরমোনগুলোর ঠিক মতো কাজ করার জন্য কোলেস্টেরলের মাত্রা ঠিক থাকা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। বাদাম বা বীজ জাতীয় খাবারে প্রচুর পরিমাণে প্রয়োজনীয় মনোস্যাচুরেটেড ফ্যাট থাকে যা, শরীরে কোলেস্টেরল তৈরিতে সাহায্য করে। বীজ জাতীয় খাবার যেমন কুমড়োর দানায় থাকে প্রচুর পরিমাণে জিঙ্ক যা সেবনে প্রস্টেট গ্ল্যান্ড সুস্থ থাকে। পাশাপাশি, শুক্রাণু তৈরি করে এবং টেসটোস্টেরন হরমোন তৈরিতে সাহায্য করে।

৭। কলিজা

আয়রনের ঘাটতি পূরণের জন্য কলিজার ভূমিকা অপরিসীম। কলিজায় আরও রয়েছে উচ্চমাত্রার ভিটামিন বি-সিক্স। কলিজার ভিটামিন ‘এ’ শীতকালীন ঠাণ্ডা-কাশির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে । আমাদের শরীরের শিরা-উপশিরার ভেতর দিয়ে রক্ত প্রবাহিত হয়। কলিজার কোলাজেন ও ইলাস্টিন নামের উপকরণ এই শিরা- উপশিরার দেয়ালকে প্রসারিত করে । ফলে রক্ত প্রবাহ সহজ হয়। এছাড়া ভিটামিন ডি, জিংক ও ভিটামিন বি১২ থাকে ফলে টেস্টোস্টেরন হরমোন বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।

৮। দুধ, দই ও আইসক্রিম

এই সকল খাবার গুলিতে প্রচুর ফ্যাট ও মিনারেল আছে। শরীরের ক্লান্তি দূর করতে সাহায্য করে। এছাড়া ভিটামিন ডি পাওয়ার খুব ভাল মাধ্যম, ফলে আপনার শরীরে টেস্টোস্টেরন বাড়ানোর জন্য নিয়মিত দুধ, দই ও আইসক্রিম খেতে পারেন। তবে ফ্যাট সবার জন্য ভাল নাও হতে পারে ফ্যাট খাবার নেওয়ার আগে ডাক্তার এর পরমর্শ নেওয়া উচিত।

৯। কলা

শরীরে টেস্টোস্টেরনের ক্ষরণ বৃদ্ধি করতে রোজের ডায়েটে কলা রাখতে পারেন। নিয়ম করে কলা খেলেও শরীর চাঙ্গা থাকে, শরীরে স্ফূর্তি আসে। কলা ব্রোমেলেইন এনজাইম টেস্টোস্টেরনের মাত্রা বাড়াতে সাহায্য করে। আর দীর্ঘ সময় ধরে শক্তি সরবরাহের উৎস হিসেবে কাজ করে। ব্রোমেলেইন এনজাইম টেস্টোস্টেরনের মাত্রা বাড়াতে সাহায্য করে। আর দীর্ঘ সময় ধরে শক্তি সরবরাহের উৎস হিসেবে কাজ করে।

১০। ডালিম, আনার, বেদানা

যৌন ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য ডালিম পরিচিত। অ্যান্টিঅক্সিডেন্টগুলির সমৃদ্ধ উৎস হওয়ার কারণে শুক্রাণু উৎপাদনের গুণগত মান বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। প্রতিদিন আপনি ডালিমকে কাঁচা অথবা রস আকারে খেতে পারেন। বেদানা ইরেক্টাইল ডিসফাংশন অর্থাৎ পুরুষত্বহীনতারও চিকিৎসা করতে পারে। যৌন কর্মে অক্ষম পুরুষের ডালিমের রস টনিক হিসাবে কাজ করে।

বেদানার মধ্যে এমন কিছু গুণ রয়েছে যা পুরুষদের টেস্টোস্টেরনের মাত্রা বাড়ানো থেকে শুরু করে লিবিডো বৃদ্ধি এবং ইরেক্টাইল ডিসফাংশনের হাত থেকে মুক্তি দিতে পারে।

 

 

 

Leave a Comment