বাংলাদেশের বিমানবন্দর সমূহ ও নাম সহ বিস্তারিত জানুন।

শাহ-আমানত-আন্তর্জাতিক-বিমান-বন্দর

বাংলাদেশের বিমানবন্দর সমূহ

বাংলাদেশ, সরকারিভাবে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ, দক্ষিণ এশিয়ার একটি রাষ্ট্র। এটির বেশিরভাগই ভারত সীমানা ঘেরা।কিন্তু দক্ষিণ-পূর্বে বার্মার ছোট সীমানা রয়েছে এবং দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর রয়েছে।

ঢাকা হচ্ছে বাংলাদেশের রাজধানী এবং সবচেয়ে বড় শহর ।বাংলাদেশের রয়েছে ৩টি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, ৫টি অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দর এবং ৭টি স্বল্প পরিসরের বন্দর। একটি অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দর নির্মানাধীন রয়েছে। এছাড়া এখানে রয়েছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় তৈরি করা বেশ কিছু এয়ারস্ট্রিপ।

বাংলাদেশের বিমানবন্দর নাম

বাংলাদেশের বিমানবন্দরের সমূহের নাম ও অবস্থান নিচে তুলে ধরা হলো  ঃ-

১।আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর  ঃ

অবস্থান                           বিমানবন্দরের বিভাগ                    বিমানবন্দরের নাম 

ঢাকা                                      ঢাকা বিভাগ                                        শাহজালাল  আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর

চট্টগ্রাম                                  চট্টগ্রাম বিভাগ                                    শাহ  আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর

সিলেট                                  সিলেট  বিভাগ                                    ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর

 

২।অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দর  ঃ

অবস্থান                           বিমানবন্দরের বিভাগ                        বিমানবন্দরের নাম 

রাজশাহী                             রাজশাহী বিভাগ                                      শাহ মখদুম বিমানবন্দর

যশোর                                 খুলনা বিভাগ                                            যশোর বিমানবন্দর

সৈয়দপুর,নীলফামারী        রংপুর বিভাগ                                            সৈয়দপুর বিমানবন্দর

কক্সবাজার                        চট্টগ্রাম বিভাগ                                          কক্সবাজার বিমানবন্দর

বরিশাল                              বরিশাল বিভাগ                                          বরিশাল বিমানবন্দর

ঈশ্বরদী, পাবনা                  রাজশাহী বিভাগ                                          ঈশ্বরদী বিমানবন্দর

তেজগাও, ঢাকা                    ঢাকা বিভাগ                                          তেজগাঁও বিমানবন্দর

বাগেরহাট                          খুলনা বিভাগ                                          খান জাহান আলী বিমানবন্দর

 

৩।অব্যবহৃত বিমানবন্দর

অবস্থান                             বিমানবন্দরের বিভাগ                বিমানবন্দরের নাম 

সন্দ্বীপ,চট্টগ্রাম                     চট্টগ্রাম বিভাগ                                  সন্দীপ বিমানবন্দর

চকোরিয়া,কক্সবাজার            চট্টগ্রাম বিভাগ                                চকরিয়া বিমানবন্দর

ফেনী                                      চট্টগ্রাম বিভাগ                                  ফেনী বিমানবন্দর

ঘাটাইল-টাঙ্গাইল                  ঢাকা বিভাগ                                      রাজেন্দ্রপুর বিমানবন্দর

মৌলভীবাজার                      সিলেট বিভাগ                                মোলভীবাজার বিমানবন্দর

রসুলপুর                                চট্টগ্রাম বিভাগ                                রসুলপুর বিমানবন্দর

সিরাজগঞ্জ                            রাজশাহী বিভাগ                              সিরাজগঞ্জ বিমানবন্দর

টাঙ্গাইল                                ঢাকা বিভাগ                                     পাহাড় কাঞ্চনপুর বিমানবন্দর

বাজিতপুর,কিশোরগঞ্জ        ঢাকা বিভাগ                                    বাজিতপুর বিমানবন্দর

পটুয়াখালী                          বরিশাল বিভাগ                                  পটুয়াখালী বিমানবন্দর

 

তিন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সম্পর্কে জানুন

১।শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর  ঃহযরত শাহ্‌জালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর  রাজধানী ঢাকার কুর্মিটোলায় অবস্থিত । এটি  বাংলাদেশের প্রধান এবং সবচেয়ে বড় আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। এটির কার্যক্রম শুরু হয়   ১৯৮০ সালে । পূর্বের বাংলাদেশের একমাত্র আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর  তেজগাঁও বিমানবন্দর থেকে এর কার্যক্রম স্থানান্তর করা হয়। এটি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, রিজেন্ট এয়ারওয়েজ , ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স, ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ-সহ বাংলাদেশের সকল এয়ার লাইন্সগুলোর হোম বেস।

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর

১,৯৮১ একর এলাকা বিস্তৃত  এই বিমানবন্দর দিয়ে দেশের প্রায় ৫২ শতাংশ আন্তর্জাতিক এবং আভ্যন্তরীন ফ্লাইট উঠা-নামা করে। যেখানে চট্টগ্রামে অবস্থিত দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বিমানবন্দর শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর প্রায় ১৭ শতাংশ যাত্রী ব্যবহার করে। এ বিমানবন্দর দিয়ে বার্ষিক প্রায় ৪০ লক্ষ আন্তর্জাতিক ও ১০ লক্ষ অভ্যন্তরীন যাত্রী এবং ১৫০,০০০ টন ডাক ও মালামাল আসা-যাওয়া করে।

২।শাহ  আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর  ঃশাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর চট্টগ্রামে অবস্থিত বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বিমানবন্দর। এই বিমানবন্দর দিয়ে দেশের প্রায় ২১ শতাংশ যাত্রী ব্যবহার করে। শাহ-আমানত-আন্তর্জাতিক-বিমান-বন্দর

এই বিমানবন্দরটি চট্টগ্রাম শহরের জিইসির মোড় থেকে ২০ কিলোমিটার এবং চট্টগ্রাম রেলওয়ে ষ্টেশন থেকে ১৮.৫ কিলোমিটার দূরে চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় কর্ণফুলী নদীর তীরে অবস্থিত।২০০১ সালে বিএনপি সরকার এটাকে বর্তমান নামে নামকরণ করে।

 

৩।ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর  ঃওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বাংলাদেশের একটি অন্যতম প্রধান ও তৃতীয় বৃহত্তম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। এটি দেশের উত্তর-পূর্ব কোণের বিভাগীয় শহর সিলেটে অবস্থিত। এটি মূল সিলেট শহর হতে উত্তর-পুর্ব দিকে ৫ মাইল দূরে বড়শাল এলাকায় অবস্থিত।

ওসমানী_আন্তর্জাতিক_বিমানবন্দর

বিমানবন্দরটি বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ দ্বারা পরিচালিত হয় ও বাংলাদেশের জাতীয় এয়ারলাইন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স-এর জন্যও ব্যবহৃত হয়। বেসরকারি বিমান সংস্থা নভোএয়ার, ইউনাইটেড এয়ারলাইন্স এবং ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স সিলেট থেকে ঢাকায় অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট পরিচালনা করে।


বাংলাদেশের বিমানবন্দর নাম,বাংলাদেশের বিমানবন্দর সংখ্যা,বাংলাদেশের বিমানবন্দর দেখতেচাই,birbangla.com,বাংলাদেশের বিমানবন্দর ভিডিও,বাংলাদেশের বিমানবন্দর দেখান,বাংলাদেশের বিমানবন্দর গুলো
বাংলাদেশের বিমানবন্দর দেখব,

কক্সবাজারের দর্শনীয় স্থান ও ভ্রমন গাইড

কক্সবাজার ভ্রমণ

দেশের ভেতর ঘুরতে যেতে চাইলে সবার প্রথম যে নামটা মাথায় আসে সেটা হলো কক্সবাজার ।পৃথিবীর সব থেকে দীর্ঘ সমুদ্র সৈকত হলো কক্সবাজার ।প্রায় ১২০ কিলোমিটার সমুদ্র সৈকতে বসে সুর্যাস্ত দেখার মত স্বর্গীয় অনুভুতি অন্য কোথাও পাওয়া যাবে না ।কক্সবাজার গেলে যে শুধুমাত্র এই সমূদ্র দেখতা পারবেন তা কিন্তু নয় ।এছাড়া আছে নদী ,দ্বীপ,পাহাড়,স্বর্ন মন্দির যাযে কোনো পর্যটককে মুগ্ধ করতে বাধ্য ।যদি এখনো আপনি কক্সবাজারে না গিয়ে থাকেন তাহলে এই পোস্ট টা আপনার জন্য ।

কক্সবাজারের দর্শনীয় স্থান

কক্সবাজারে যাওয়ার আগে আপনাকে জানতে হবে এর দর্শনীয় স্থান  কি কি আছে ।কক্সবাজারের দর্শনীয় স্থানসমূহ

১।কক্সবাজার সমূদ্র সৈকত

২।মেরিন ড্রাইভ

৩।হিমছড়ি

৪।ইনানী বিচ

৫।রামু

আপনি কয়দিন থাকতে পারবেন সেভাবে আপনাকে ট্যুর প্লান করতে হবে ।কারন কক্সবাজার এমন একটা জায়গা যেখানে মাসের পর মাস শুধু প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করলেও কখনো মনে হবে না এখান থেকে চলে যায় ।কিন্তু কর্মব্যস্ত জীবনে আপনাকে নির্দিষ্ট প্লান করে যেতেই হবে ।

                                                                 এক দিনে কক্সবাজার ভ্রমণ

(যারা কক্সবাজার যেতে চান কিন্তু হাতে সময় কম তাদের জন্য এই পোস্ট)

কিভাবে যাবেনঃ

গাবতলি থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার বাসে উঠে পড়ুন। সুপারভাইজারকে বলবেন আপনাকে যেন কক্সবাজার কলাতলী বাসস্ট্যান্ডে নামিয়ে দেয়। বাস ওখানে পৌছবে সকাল ৬-৬ঃ৩০ এর মধ্যে। বাস থেকে নেমেই দেখবেন সামনে পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত! 

 সৈকত ধরে ডান দিকে হাঁটতে থাকুন একদম শেষ মাথায় ঝাউবনের লাগোয়া লাবনী পয়েন্ট পর্যন্ত। ১-২ ঘন্টা বিচে ঘোরাঘুরি করে যেকোন বিচের পাশের হোটেলগুলির মাঝখান দিয়ে মেইন রোডে আসুন। রিক্সায় উঠে ১০ টাকা দিয়ে চলে আসুন কলাতলি বাস স্ট্যান্ডে। এখানে ব্রেকফাস্ট করে নিতে পারেন। তারপর দেখবেন অনেকগুলো অটো দাঁড়িয়ে আছে হিমছড়ি, ইনানী যাওয়ার জন্য। হিমছড়ি যাওয়ার জন্য ঠিক করুন একটাকে। রিজার্ভ নিতে লাগবে ১০০ টাকার মত। মেরিন ড্রাইভ রোড ধরে পূর্ব দিকে যেতে থাকুন হিমছড়ির দিকে।

 

কক্সবাজার ভ্রমণমাঝখানে সুন্দর কিছু পাহাড়, ঝড়না, গুহা আছে, নেমে ছবি তুলে আসতে পারেন। হিমছড়ি পৌছে ৩০ টাকা দিয়ে টিকেট কেটে সিঁড়ি বেয়ে উঠে পড়ুন পাহাড়ে। ওঠার ক্লান্তি মিলিয়ে যাবে উপরে উঠে ডানে বামে পুরো সৈকতের অপরূপ সুন্দর দৃশ্য দেখে। পাহাড় থেকে নেমে দেখুন আবার অনেক অটো দাঁড়িয়ে আছে ১৬ কিমি দূরে ইনানী যাওয়ার জন্য। একটাকে রিজার্ভ করুন শুধু যাওয়ার জন্য। ২০০ টাকা লাগতে পারে।

ইনানী বিচ

অন্যান্য বিচের চেয়ে ইনানীর পার্থক্য হল প্রবাল পাথরের উপস্থিতি । ইনানী দেখে খাওয়া দাওয়া শেষ করে ফেরার জন্য কক্সবাজার কলাতলির দিকে রওনা দিন। রিজার্ভ নিলে ৩০০ টাকার মত লাগবে আর অন্য কয়েকজনের সাথে মিলে আসলে আরো অনেক কম। কলাতলিতে এসে বাসের কাউন্টার থেকে রাত ৮টা, ৯টা অথবা ১০ টার বাসের টিকেট কাটুন। কলাতলিতে না পেলে ১০ টাকা দিয়ে কক্সবাজার বাস টার্মিনালে আসুন। এসে দেখবেন অনেক বাসের কাউন্টার। একটায় না একটায় টিকেট পাবেন ১০০% নিশ্চিত। ঢাকা এসে পৌছবেন পরদিন দুপুরের আগেই। ধন্যবাদ সবাইকে।

                                                               দুই দিনের কক্সবাজার ভ্রমণ

যাত্রা  ঃ ঢাকা ফকিরাপুল থেকে “হানিফ পরিবহণের”  বাসে করে সন্ধ্যা ৭টায় টেকনাফের উদ্দেশ্য বাস পাবেন।

টেকনাফ   ঃ সকাল ৮টার মধ্যে  টেকনাফের “কেয়ারী ঘাটে” পৌঁছাবেন।   তাই আর দেরি না করে কেয়ারী ঘাটেই সকালের নাস্তা সেরে “সরাসরি স্পেশাল” পরিবহণে করে কক্সবাজার চলে যাবেন।  বাস ভাড়া ১৮০টাকার মত।সকালের নাস্তা টা ওখানেই সেরে নিন।

কক্সবাজার  ঃ কক্সবাজার পৌঁছাতে পৌঁছাতে বেলা ১২টা বেজে যাবে।   হোটেল কনফার্ম করে হোটেলে চলে যবেন।

হোটেল ঃ আমরা কলাতলি বিচের কাছাকাছি বিচ ওয়ে হোটেলের গোলিতে অনেক হোটেল পাবেন । এপার্টমেন্টে ৩,৫০০ টাকায় (২ দিনের জন্য) একটি ফ্লাট ভাড়া নেই। ৩ রুমের ফ্লাট, ২টা বাথরুম, ২টা বেলকনি, একরুম এসি, এক কথায় আমাদের ১০ জনের জন্য অসাধারণ। তবে একটু দামাদামি করলে দিন প্রতি ১৫০০ টাকা মানে দু’দিনের জন্য ৩০০০ টাকার মধ্যেই পেয়ে যাবেন। (খরচঃ হোটেল ভাড়া বাবদ ৩৫০ টাকা)

সমুদ্রে  গোসল  ঃ সমুদ্রে গোসল করতে চাইলে অবশ্যই ২টার আগে যাবেন। ২টার পর দ্রুত ভাটা চলতে থাকে। তখন সমুদ্রের পানি দ্রুত নেমে যেতে থাকে তাই স্রোতে ভেসে যাবার রিস্ক থাকে এবং গোলস করেও মজা থাকে না। সমুদ্রে গোসল করতে যাবার আগে মোবাইল ফোন, জুতা, টাকা-পয়সা অন্যান্য সরঞ্জাম না নিয়ে যাওয়াই ভালো। কেননা বিচে এগুলো রাখার কোন সেফটি প্লেস নেই। বিচ ফটোগ্রাফারদের দিয়ে ছবি তুলে নেবার আগে দামাদামি করে নিন। এরা ৫টাকা করে চাবে। দামাদামি করলে ২.৫-৩ টাকায় রাজি হয়। ছবি তুলে দেবার পর ছবিগুলো নেবার আগে ফটোগ্রাফারের ক্যামেরায় ছবিগুলো সিলেক্ট করে নিন কোন কোন ছবিগুলো আপনার ভালো লেগেছে এবং বাকিগুলান ডিলিট করে দিন। কেননা তারা এক ছবি ৩/৪বার স্নাপ নেয় যার ফলে বারতি টাকা দাবি করে। মনে রাখবেন ছবি সিলেক্ট করবার সময় একবারই সিলেক্ট এবং ডিলিট করবেন। তারা দ্বিতীয়বার সুযোগ দেয় না।

চাঁদের গাড়ি ভাড়া  ঃ সমুদ্রে গোসল সেরে হোটেলে ফিরে আধা ঘন্টার মধ্যে সবাই রেডি হয়ে  যান।  দুপুরের খাবার শেষ করে “ইনানী বিচে” এর দিকে যেতে পারেন । সুগন্ধা বিচের মাথায় মেইন রোডে ইনানী বিচে যাবার জন্য চাদের গাড়ি এবং অটো ভাড়া পাওয়া যায়। দামাদামি করে ১২০০ টাকায় একটা চাদের গাড়ি রিজার্ভে ভাড়া করবেন। যেটা আমাদের ইনানী বিচে নিয়ে যাবে এবং নিয়ে আসবে।

দুপুরের খাবার  ঃ  কক্সবাজারে দুটি জনপ্রিয় খাবার হোটেল আছে। একটি “শালিক” এবং অন্যটি “পোউশি”। ইনানী বিচে যাবার পথে শালিক রেস্তোরা পরে। খাবার আইটেমঃ ভাত,২ প্লেট ভর্তা (৫জের জন্য এক প্লেট এনাফ), ডাল ২ বাটি, বিফ মাংস (২টা)। রেটিং ৮.৫/১০। কক্সবাজারে মাছের দামও বেশি।

মেরিন ড্রাইভ  ঃ  সমুদ্রের পারে বিচ ঘেসে চলে গেছে দীর্ঘ পিচঢালা পথ। মেরিন ড্রাইভ। এই পথ দিয়ে গাড়িতে চলবার অনুভূতিও অন্যরকম। গাড়ি চলছে, পাশেই সমুদ্রের বেলাভূমি। বেলাভূমি ঘেসে সমুদ্র। সমুদ্রের ঢেউ আছড়ে পড়ছে বেলাভুমির তটে। সূর্যও ডুবি ডুবি করছে। সমুদ্রের গর্জন। কিছুদুর পরপর পথের দুধারে ছোট-বড় রেস্টুরেন্ট, সেনাবাহিনীর ক্যাম্প, সুপারি আর পানের বাগান। সব মিলিয়ে মেরিড ড্রাইভের পিচঢালা পথ সমুদ্রের দীর্ঘ সী-বিচের মতই অপূর্ব।

মেরিন ড্রাইভ

ইনানী বিচ  ঃ  মেরিন ড্রাইভ ধরে ইনানী বিচে পৌঁছে যাবেন।  পরপর সমুদ্রের উত্তাল ঢেউ এসে শীতল জলে বারবার পা ভিজিয়ে দিচ্ছে আর আমি ফিরে যাচ্ছি ফ্যান্টাসিতে। এখানেও ফটোগ্রাফারে গিজগিজ করছে। একজন ফটোগ্রাফার ঠিক করে নিবেন।। কিছুক্ষণ পর সূর্যাস্ত শুরু হলো। ওয়েদার ভালো ছিলনা, তাই সূর্যাস্ত মন মত দেখা গেল না। একটু সূর্য থাকে আবার মেঘ ঢেকে দেয়। হাটু পানিতে নেমে সূর্যের লুকোচুরি দেখতে পারবেন। বিচের একপাশে ডাব বিক্রি হয়। প্রতিটি ডাব ৪০-৪৫ টাকা নেবে।

 হিমছড়ি ঃ কক্সবাজারের কলাতলী মোড় থেকে খোলা জিপে হিমছড়ি যেতে হয়।জনপ্রতি ভাড়া লাগে ৭০ থেকে ১০০।রিজার্ভ যাওয়া যাবে ১০০০-১৫০০।ইজিবাইক/অটোরিক্সায় যাওয়া যায় ৪০০-৫০০ টাকায়।হিমছড়ির ইকোপার্কে যেতে লাগে ২০ টাকা।

হিমছড়ি ভ্রমণ

রামু ঃকক্সবাজার থেকে রামু যেতে হলে সব থেকে সহজ উপায় গাড়ি ভাড়া করে নেওয়া ।জনপ্রতি ৪০/৫০ টাকা লাগে ।রিজার্ভ  করলে ৪০০/৫০০ টাকা ।৪/৫ ঘন্টায় সবগুলো বৌদ্ধ মন্দির দেখতে পারবেন।

রামু

কেনাকাটা  ঃ কেনাকাটার জন্য চলে যাবেন বিচের পাশেই লাবনি পয়েন্টের মার্কেটে । কেনার মত অনেক কিছু পাবেন ।আচার ,চকলেট ,বিভিন্ন প্রকার সামুদ্রিক জিনিস দিয়ে বানানো শো-পিচ ।


কক্সবাজার ভ্রমণ ব্লগ ,কক্সবাজার ভ্রমণ প্যাকেজ ২০১৯ ,কক্সবাজার ভ্রমণ নিয়ে স্ট্যাটাস,কক্সবাজার ভ্রমণ খরচ,কক্সবাজার ভ্রমণ স্থান,কক্সবাজার ভ্রমণ কাহিনী,কক্সবাজার ভ্রমণ টিপস,birbangla.com,

সেন্টমার্টিন দ্বীপ ভ্রমণ,খরচ ও গাইড

সাজেক ভ্রমণ

সেন্টমার্টিন বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল সমৃদ্ধ দ্বীপ।চারদিক থেকে নীল জলরাশি দিয়ে ঘেরা এই দ্বীপ পর্যটনদের বিমোহিত করে রেখেছে।প্রতি বছর হাজার হাজার পর্যটক অপার্থিব প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে এই দ্বীপে ছুটে আসে।নীল জলরাশি আর নারকেলের দ্বীপ সেন্টমার্টিন যার অন্য নাম দারুচিনি দ্বীপ, নারিকেল জিঞ্জিরা। প্রখ্যাত লেখক হুমায়ূন আহমেদ এই দ্বীপের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে এই দ্বীপ নিয়ে উপন্যাস লিখেছেন, মুভি বানিয়েছেন।

সেন্টমার্টিন দ্বীপ ভ্রমণ

টেকনাফ বা শাহপরীর দ্বীপ হতে ট্রলারে ও জাহাজে চড়ে সেন্টমার্টিন দ্বীপ ভ্রমণ করা যায়।তবে বিভিন্ন কোম্পানির জাহাজসমূহ মূলত শাহপরীর দ্বীপের জাহাজ ঘাট হতে সেন্টমার্টিন দ্বীপের উদ্দেশ্যে রওনা করে থাকে।শাহপরীর দ্বীপ থেকে সেন্টমার্টিন দ্বীপের দূরত্ব প্রায় ১৮ কিলোমিটার।এই ১৮ কিলোমিটারের পথ ‘বাংলা চ্যানেল ‘ নামে পরিচিত।এই পথ দিয়ে যাবার সময় মাছ ধরার অনেক ট্রলার দেখবেন।

সেন্টমার্টিনা ভ্রমণ

সমুদ্র যাত্রার এই পথে অসংখ্য গাঙচিল দেখবেন কিছুক্ষণ পর পর।জাহাজ হতে বাংলাদেশ অংশের সীমানা ও জঙ্গল দেখতে পারবেন।বিপরীত পাশে মিয়ানমারের অংশের সীমানা,পাহাড় ও জঙ্গল দেখতে পাবেন। সেন্টমার্টিন দ্বীপ হতে আসার পথে নাফ নদীর সৌন্দর্য দেখতে পাবেন যদি জাহাজ টেকনাফ জাহাজ ঘাটকে গন্তব্য হিসেবে নেয়।

                                                     সেন্টমার্টিন দ্বীপের দর্শনীয় স্থানসমূহ

এই দ্বীপের গভীর নীল জলের সৈকতই এই দ্বীপের মূল আকর্ষন।এখানে অসংখ্য নারিকেল গাছ, কেয়া বন দেখতে পাবেন।এই দ্বীপে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের অফিস রয়েছে।এখানে বিখ্যাত লেখক হুমায়ন আহমেদের ‘সমুদ্র বিলাস’ বাড়ি দেখতে পাবেন।এছাড়া এখানে সহজ সরল ধর্ম পরায়ণ মানুষের জীবন জীবিকা দেখতে পাবেন।সাইকেল ভাড়া (ঘন্টা – ৫০ টাকা) করে সমগ্র দ্বীপ ভ্রমণ করতে পারবেন।ট্রলার ভাড়া পাশের ছেঁড়া দ্বীপ ভ্রমন করতে পারবের।রাত ১২.০০ বেলার পর সেন্টমার্টিন দ্বীপের সৈকতে আড্ডা দেওয়ার অনুভুতিই আলাদা।

সেন্টমার্টিনা ভ্রমণ

                                                          সেন্টমার্টিন দ্বীপে থাকা ও খাবার ব্যবস্থা

সিজন অপেক্ষা অনেক কমে থাকার জন্য রিসোর্ট পেয়ে যাবেন, তবে অফ সিজনে সব রিসোর্ট খোলা থাকে না। যারা একটু বেশি নির্জন ও নিস্তব্ধতা পছন্দ করেন তাদের জন্য বেস্ট বীচ ভিউ রিসোর্ট গুলো। আমরা বাজার থেকে মোটামুটি দূরত্বের “নিসর্গ কুটির” রিসোর্ট এর (কোরাল) এ উঠেছিলাম। দুই বেড অনেক বড় রুম, ভাড়া ৬০০/- টাকা মাত্র। যা সিজনে মোটামুটি প্রায় তিন হাজার টাকায় ভাড়া হয়। রিসোর্ট এর লোকদের সাথে কথা বলে খাওয়া দাওয়ার ব্যাপার ঠিক করে নেওয়াই ভালো,,এতে খাবার খরচ অনেক কম পরবে। যা বাহিরে খেতে গেলে অনেক বেশি পরবে। আমরা টুনা মাছ ভর্তা, ডাল, রুপচাঁদা ফ্রাই, আর কোরাল মাছ দিয়ে লাঞ্চ এবং ডিনার করি। জনপ্রতি প্রতিবেলা ১২০/- টাকা যা বাহিরের খবার এর দাম অপেক্ষা অনেক কম।

সেন্টমার্টিনা ভ্রমণ

সেন্টমার্টিন এর মূল দ্বীপ থেকে ছেড়া দ্বীপ যেতে চাইলে আপনি হেটে কিংবা সাইকেল প্যাডেল করতে করতে ও চলে যেতে পারেন। যাওয়ার আগে জোয়ার ভাটার সময় জেনে নিয়ে যাবেন, সাইকেল ভাড়া ঘন্টা প্রতি ৪০ টাকা নিয়েছিল।

সেন্টমার্টিনা ভ্রমণ

সেন্টমার্টিন গেলে অবশ্যই কয়েক দিন সময় হাতে নিয়ে যাবে।কারন সেন্টমার্টিন গেলে দুই এক দিন না থাকলে রাতের সেন্টমার্টিন উপভোগ করতে পারবেন না। রাতের সেন্টমার্টিন সত্যি মনোমুগ্ধকর। সেন্টমার্টিন গেলে অবশ্যই ডাব এর টেষ্ট নিতে ভূল করবেন না, না হলে আপনার মনে হতেই পারে অসম্পূর্ণ ট্যুর। বাজারে জেটির কাছেই ২০/২৫ টাকায় পেয়ে যাবেন বড় মিষ্টি ডাব। তবে আমাদের মতো ভাগ্যে ভালো থাকলে আর গ্রুপ মেম্বার কেউ গাছে উঠতে জানলে গাছ থেকে ডাব পেরে খাওয়ার অভিজ্ঞতা ও পেয়ে যেতে পারেন।

 খেয়াল রাখবেন  ঃ

১। প্রথমেই আপনার মাথায় রাখা উচিত আপনি ট্রলারে যাচ্ছেন যা অনিরাপদ, তাই আপনার মনোবল শক্ত হওয়া প্রয়োজন, তা না হলে অফ সিজন আপনার জন্য নয়।
২। সেন্টমার্টিন যাওয়ার আগে অবশ্যই আবহাওয়ার পূর্বাভাস সম্পর্কে যেনে বের হন।
৩।সেন্টমার্টিন যাওয়ার আগে আপনার জন্মনিবন্ধন, পরিচয় পত্র অথবা পার্সপোর্ট এর ফটোকপি সাথে রাখুন, চেকিং এর সময় প্রয়োজন হতে পারে।
৪।সাথে টুপি কিংবা ছাতা অবশ্যই রাখবেন, ট্রলারে প্রচন্ড রোদে এর প্রয়োজন ঠিক তখনই বুঝতে পারবেন।
৫। যারা সী – সিকনেসে ভুগেন তারা অবশ্যই ভরাপেটে ট্রলার ভ্রমণ পরিহার করুন।
৬। ছেড়া দ্বীপে যাওয়ার ক্ষেত্রে সাথে অবশ্যই পানির বোতল সাথে নিয়ে যাবেন।
৭। অফ সিজনে সেন্টমার্টিন তুলনামূলক নির্জন থাকে। তাই রুম থেকে বের হবার সময় দড়জার সাথে সাথে জানালা গুলো বন্ধ করতে ভূল করবেন না।
৮। সেন্টমার্টিন এর স্থানীয়রা খুব বন্ধু সুলভ তাই তাদের সাথে ও বন্ধু সুলভ আচরণ করুন।
৯। সেন্টমার্টিনে মিষ্টিপানির পরিমান খুব কম।তাই আপনার সন্তনকে ব্যাগ ভর্তি পনি নিয়ে সেন্টমার্টিন ভ্রমণে পাঠাতে না চাইলে, মিষ্টিপানির অপব্যবহার পরিহার করুন।
১০। আপনার ব্যবহৃত এবং আপনার চোঁখের সামনে যদি কোন ময়লা আবর্জনা থাকে তবে তা তুলে এনে নির্দিষ্ট স্থানে ফেলুন ।এবং সামুদ্রিক পরিবেশ রক্ষা করুন । সেন্টমার্টিন এ আবর্জনা ফেলার জন্য পেঙ্গুইন আকৃতির ডাস্টবিন রয়েছে।

  আপনার ভ্রমণের সময় পরিবেশ নষ্ট করা হতে বিরত থাকুন।নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা ফেলুন।প্রকৃতি কে সবসময়       ভালোবাসুন।


সেন্টমার্টিন ভ্রমন কাহিনী,সেন্টমার্টিন ভ্রমন ২০১৯,saint martin travels dhaka,সেন্টমার্টিন ভ্রমন টিপস,সেন্টমার্টিন ভ্রমন খরচ ২০১৯,saint martin travels online ticket,saint martin travels bd,সেন্টমার্টিন ভ্রমন খরচ ২০২০,সেন্টমার্টিন ভ্রমণ,সেন্টমার্টিন ভ্রমণ খরচ,birbangla.com,

খাগড়াছড়ি ও সাজেক ভ্রমন গাইড- স্থান ও টিপস

খাগড়াছড়ি ও সাজেক ভ্রমন গাইড- স্থান ও টিপস

ভ্রমন পিপাসুদের জন্য নতুন স্বপ্নের রাজ্য হলো সাজেক ভ্যালী। এখানে একবার ঘুরে মনকে সন্তুষ্ট করতে পেরেছেন এমন মানুষের সংখ্যা কম। সাজেকের প্রতিটি পূর্ণিমাই হবে উপভোগ্য। আসলে, জায়গা টাই এমন। পাগল মন তাই বারবার ছুটে যেতে চাইবে সাজেকে।

সারা বছরই যাওয়া যায় সাজেকে। তবে বর্ষায় সাজেকের রূপ যেন বেড়ে যায় কয়েকগুন। বৃষ্টিতে কটেজ থেকে বের হওয়া না গেলেও বারান্দা থেকেই উপভোগ করা যায় মেঘ আর পাহাড়ের মেলবন্ধন। ঝিরি ঝিরি বৃষ্টিতে টিনের চালের রিমঝিম নূপুরের শব্দ আর পাহাড়ে মেঘের বর্ষণ আপনাকে নিয়ে যাবে স্বপ্নের নতুন দিগন্তে।

                                                                  খাগড়াছড়ি ভ্রমন

যোগাযোগ ব্যবস্থা

শুধুমাত্র সড়কপথে ঢাকা থেকে খাগড়াছড়ির যোগাযোগ ব্যবস্থা আছে। কিন্তু আপনি  ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত ট্রেন বা প্লেনে করে যেতে পারেন। সেখান থেকে বাস বা অন্য কোনো পরিবহনে খাগড়াছড়ি যেতে পারবেন।

সড়কপথ

সড়কপথে ঢাকা থেকে প্রতিদিন বিভিন্ন কোম্পানীর একাধিক বাস দিনে ও রাতে ছেড়ে যায়।

ঢাকা – খাগড়াছড়ি

চট্টগ্রাম – খাগড়াছড়ি

ঢাকা থেকে খাগড়াছড়ি পর্যন্ত যেতে বাস যেতে জনপ্রতি ভাড়া পড়বে ৫২০ টাকা।তবে এই রুটে কোনো এসি বাস নাই।

রেলপথে

ঢাকা থেকে সরাসরি খাগড়াছড়ির সাথে এখনো কোনো রেল যোগাযোগ গড়ে ওঠেনি। রেলে করে রাঙ্গামাটি যেতে চাইলে আপনাকে প্রথমে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম যেতে হবে। চট্টগ্রাম থেকে বিভিন্ন পরিবহনের অসংখ্য বাস রয়েছে সরাসরি খাগড়াছড়ি যাওয়ার।চ্ট্টগ্রাম স্টেশনের  পাশেই আছে  বিআরটিসি বাস কাউন্টারে।পায়ে হেটেই যেতে পারবেন।জনপ্রতি টিকিট খরচ পড়বে ২০০ টাকা ।

খাগড়াছড়ির দর্শনীয় স্থান

১। রিসাং ঝর্না
২। তারেং
৩।আলুটিলা গুহা
৪। বৌদ্ধ মন্দির
৫। ঝুলন্ত ব্রীজ
৬।শতবর্ষী বটগাছ

৭।হাজড়াবাড়া ঝর্না

৮।রুইলুই পাড়া

খাগড়াছড়ি ও সাজেক ভ্রমন গাইড

বাস থেকে নামবেন  খাগড়াছড়ির ইজোর রেস্টুরেন্টের সামনে। এখানে ফ্রেশ হয়ে পরোটা, ডিম ভাজি, সবজি দিয়ে নাস্তা সেরে চলে যাবেন শাপলা চত্বরে। গত ৫ নভেম্বর থেকে সবাইকে এখান থেকেই পিকাপ নিতে হচ্ছে। ভাড়াও বেড়েছে আগের চেয়ে। ঠিক করা চান্দের গাড়ি নিয়ে যত দ্রুত সম্ভব চলে যান রিসাং ঝর্ননায়। গাড়ি আপনাকে যেখানে নামিয়ে দেবে সেখান থেকে ঝর্নায় নেমে যাবেন আপনশক্তিতে। নেমে ভালো সময় কাটিয়ে চলে আসবেন ৯ টার মধ্যে এবং চলে যাবেন বাঘাইহাটের দিকে। আর যদি সময় বেশি খেয়ে ফেলেন তবে টান দিয়ে চলে যাবেন স্কর্ট এর দিকে। ওখানে নাম লিখাবেন, তথ্য দিবেন। এরপর থেকেই সাজেকের পথে যেতে যেতে উপভোগ করবেন দুই পাশের পাহাড়ের সৌন্দর্য।

মনে রাখবেন
১।ড্রাইভারের সাথে সব ক্লিয়ার করে নিবেন, কোথায় কোথায় নিয়ে যাবে, তাদের খাবার, টাকা কখন দিতে হবে। চেষ্টা করবেন শেষে দেয়ার।
২। হৈচৈ, হট্টোগোল, স্থানীয়দের সাথে বাজে ব্যবহার করবেন না।
৩। বারৈয়ার হাট থেকে খাগড়াছড়ি, রাস্তা উপভোগ করার মত। দিন কি রাত।
৪। চান্দের গাড়ির ছাদে ভ্রমনে সতর্ক থাকুন। মজা যেন সাজা না হয়। তবে কিছুটা রাস্তা ছাদে ভ্রমন না করলে মিস থেকে যাবে।।

                                                                 সাজেক ভ্রমন

সকাল সকাল আগেই ঠিক করে রাখা চাদের গাড়িতে করে রওনা দেবেন সাজকের উদ্দেশ্যে।পথে হাজাছড়া ঝর্ণাতে নেমে ওই স্পটটাও দেখে নিতে ভুলবেন না । সাজেক যেতে হয় আর্মি এসকর্টে এর সাথে সকাল ১০.৩০ অথবা বিকেল ৩ টায়। যাত্রাপথটা খুবই রোমাঞ্চকর পাহাড়ের গা বেয়ে আঁকাবাঁকা রাস্তা কখনো খাড়া হয়ে উঠে গেছে আবার কখনো ঢালু হয়ে নেমে গেছে। চারপাশে মেঘে ঘেরা মনোরম প্রাকৃতিক দৃশ্য।

খাগড়াছড়ি ও সাজেক ভ্রমন গাইড

চান্দের গাড়ির ছাদে ভ্রমণের ক্ষেত্রে অবশ্যই সতর্ক থাকবেন বিশেষ করে বাঁকগুলি ঘোরার সময়।আর কখনো কখনো আর্মিরা গাড়ি থামিয়ে ছাদ থেকে নামতে বলেছে । সাজেক পৌছাতে সময় লাগতে পারে ৩ ঘন্টা সময় । সাজেক নেমে হোটেল ভাড়া করবেন।সকালে ভোরে উঠে চলে যেতে পারেন সাজেকের সর্বোচ্চ চূড়া কংলাক পাড়ায়। ওখানে উঠতে একটু ১০-১৫ মিনিট ট্র‍্যাকিং করতে পারেন। ওখান থেকে সাজেক দেখা সকাল চমৎকার সুন্দর। বিশেষ করে যে কারনে সাজেক যাওয়া সেই মেঘ ই দেখা যায় এখান থেকে সবচেয়ে বেশি এরিয়া জুড়ে।

খাগড়াছড়ি ও সাজেক ভ্রমন গাইড

ওখানে চা খাইতে পারেন, পেয়ারা পাবেন, কলা পাবেন।ও হ্যা, চান্দের গাড়িতে আসার সময় বাঘাইছড়ি থেকে এক দুই কাদি কলা কিনে নিবেন। এত্ত মজার কলা কোথাও পাবেন না গ্যারান্টি।সকাল টা ওখানে কাটিয়ে নেমে আসবেন রুইলুই। যাওয়ার আগে অথবা আগের রাতে ওর্ডার করে যাবেন নাস্তা। এসেই খেয়ে নিবেন নাস্তা। নাস্তা খেয়ে আবার রুইলুই দেখবেন।

খাগড়াছড়ি ও সাজেক ভ্রমন গাইড

যদি ঝুলন্ত ব্রীজ,আলুটিলা গুহা দেখতে চান তবে সকালের স্কর্ট এ চলে আসবেন। আর যদি হাজাঝড়া দেখতে চান শুধু তাহলে বিকালের স্কর্টে রওনা দিয়ে দিবেন।বাঘাইছড়ি বা স্কর্ট যেখানে আছে তার থেকে সামান্য একটু হাটলেই পেয়ে যাবেন হাজাঝড়া ঝর্না। ঝর্না দেখে চলে আসবেন শহরে।এসে চাইলে ঝুলন্ত ব্রীজ দেখবেন যদি আগে চলে আসেন আর না হয় এসে বাসের টিকেট করে বাসে উঠার আগে খাবার খেয়ে রওনা দিবেন। ঢাকায় এসে পৌছাবেন সকাল ৫-৬ টায়। বন্ধের দিন, উৎসবের দিন সকল টিকেট বুকিং আগে ভাগে দেওয়ার চেষ্টা করবেন। তা না হলে টিকিট নাও পেতে পারেন।

খেয়াল রাখবেন

১।চান্দের গাড়ির ছাদে ভ্রমনে সতর্ক থাকুন। মজা যেন সাজা না হয়। তবে কিছুটা রাস্তা ছাদে ভ্রমন না করলে মিস থেকে যাবে….. আমার মত যারা সব মজা নিতে চান।
২। রাতের সাজেক হেটে বেড়ানোর মজাই আলাদা। আর যদি গিটার নিয়ে হ্যালিপ্যাডে বসলে ত কথাই নাই।
৩।যে কোনো বিপদের সামনে পরলে আর্মি চেকপোস্টে যোগাযোগ করুন। আমার দেখা মতে বাংলাদেশের সবচেয়ে সিকিউরড জায়গা সাজেক।


সাজেক ভ্রমণ ২০১৯,খাগড়াছড়ি ভ্রমণ,সাজেক ভ্রমণ প্যাকেজ,খাগড়াছড়ি ভ্রমণ স্থান,সাজেক ভ্রমন,খাগড়াছড়ি ভ্রমণ গাইড,সাজেক ভ্রমন খরচ,খাগড়াছড়ি ভ্রমণ খরচ,সাজেক ভ্রমন কাহিনী,খাগড়াছড়ি ভ্রমণ কাহিনী,সাজেক ভ্রমন গাইড,খাগড়াছড়ি ভ্রমন গাইড,খাগড়াছড়ি ভ্রমণ টিপস,খাগড়াছড়ি ভ্রমণ তথ্য,birbangla.com,

 

রাজধানি ঢাকার দর্শনীয় স্থান সমূহ

ঢাকার দর্শনীয় স্থান সমূহ

আমরা অনেকেই ঢাকায় বসবাস করি । কেউ জন্ম সুত্রে আবার কেউ জিবিকার তাগিদে । কেউ কেউ আবার পড়াশুনার জন্যেও ঢাকায় থাকি । কিন্তু আমরা কয়জন ই বা ঢাকা কে ভালো ভাবে চিনি । ব্যাস্ত এই ঢাকা শহরের যান্ত্রিকতার সাথে তাল মিলিয়ে চলতে গিয়ে আমরা ক্রমেই চিত্তবিনোদন থেকে দূরে সরে পড়ি  । তাই সবার জন্য নিয়ে এলাম ঢাকার দর্শনীয় স্থান সমূহ এর  ধারাবাহিক পর্ব। যার মাধ্যমে ঢাকার কিছু দৃষ্টি নন্দন ও সময় কাটানোর মত কিছু স্থান সমূহ এর সাথে পরিচিত হবেন যেখানে পরিবার বা প্রিয়োজন কে নিয়ে ঘুরে আসতে পারেন  । আজ থাকছে এর প্রথম পর্ব ।   

ঢাকার দর্শনীয় স্থান সমূহ পর্ব – ১

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার 


আমাদের ভাষা আন্দোলনের গৌরবোজ্জল স্মৃতির ফলক হিসেবে সগৌরবে দাঁড়িয়ে আছে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার । ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের পাশেই এর অবস্থান । রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে ১৯৫২ সালের ২১ শে ফেব্রুয়ারী হওয়া আন্দোলন রত ছাত্রদের মিছিলে পাকিস্তানী মিলিটারি বাহিনীর নির্বিচারে গুলি বর্সনে নিহিত হন  সালাম, বরকত , জব্বার , রফিক সহ নাম না জানা অনেকে । সময় পেলে যে কোন একদিন বিকেলে ঘুরে আসতে পারেন শহীদ মিনার প্রাঙ্গন থেকে । গভ সাইট থেকে আরো জানুন। 

bibrangla.com
ঢাকা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার

রোজ গার্ডেন প্যালেস


হিন্দু জমিদার হৃষীকেশ দাস ১৯ শতকে রাজধানী ঢাকার টিকাটুলিতে রোজ গার্ডেন প্যালেস টা নির্মান করেন । রোজ গার্ডেনের নয়নাভিরাম সাজঘর ছিল তৎকালীন সময়ের মুল আকর্শনের কেন্দ্র বিন্দু। প্রাসাদের সামনে বাগানে রয়েছে মার্বেল পাথরের তৈরি কয়েকটি সুদৃশ্য মুর্তি। ছুটির দিন ছাড়া অন্য সকল দিনেই আপনি রোজ গার্ডেন এ ঘুরতে পারবেন । কিন্তু মুল ভবনের  ভিতরে ঢুকার ক্ষেত্রে আপনাকে কর্তিপক্ষের পুর্ব অনুমতির প্রয়োজন হবে ।

ঢাকার আশেপাশের দর্শনীয় স্থান

birbangla.com
রোজ গার্ডেন প্যালেস

তারা মসজিদ


পুরান ঢাকার আরমানিটোলার আবুল খয়রাত সড়কে তারা মসজিদ টি অবস্থিত। তৎকালীন ঢাকার জমিদার মির্জা গোলাম পীর ১৮ শতকের শুরুর দিকেএই মসজিদ টি নির্মান করে । মোঘল স্থাপত্যের আদলে নির্মিত মসজিদ টি অনেকের কাছে সিতারা মসজিদ বা মির্জা গোলাম পীরের মসজিদ নামেও পরিচিত। পুরো মসজিদের নকশায় তারা র চিত্র কর্ম এবং মসজিদ প্রাঙ্গনে তারা র স্থাপনা বিশেশ ভাবে লক্ষণীয়। এই বিশেষ নকশার কারনে মসজিদ টি সকলের কাছে তারা মসজিদ নামে পরিচিত হয়ে উঠে।

birbangla.com
তারা মসজিদ

লালবাগ এর কেল্লা


যুবরাজ শাহাজাদা আজম যিনি কিনা সম্রাট আওরঙ্গজেবের পুত্র ছিলেন, ১৬৭৮ সালে লালবাগে একটি দুর্গ নির্মান করেন । বর্ত্মানে লালবাগ কেল্লা সুবেদার শায়েস্তা খানের বাসভবন ও দরবার হল জাদুঘর হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে । এখনে উল্লেখ যোগ্য দর্শনিয় স্থান হল শায়েস্তা খানের কন্যা ও সুলতান আজম শাহ এর স্ত্রী পরিবিবির সমাধি সৌধ এছাড়াও রয়েছে মনোরম বাগান, লালবাগ কেল্লার মসজিদ, ফোয়ারা, অরো কিছু সমাধি, তৎকালীন সময়ে যুদ্ধে ব্যবহৃত কিছু কামান, এবং একটি গোপন সুড়ংগ (যদিও সুড়ংগ টি দেখার উপযোগী নেই) ইত্যাদি। সপ্তাহের রবি ও সোমবার যথাক্রমে পুর্ন দিবস ও অর্ধ দিবস বন্ধ থাকে এছাড়াও সকল সরকারী ছুটির দিনেও লালবাগের কেল্লা বন্ধ থাকে।

ঢাকার মধ্যে ঘোরার জায়গা

birbangla.com
লালবাগ এর কেল্লা

আহসান মঞ্জিল


পুরান ঢাকার ইসলামপুরে বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে ঢাকা শহরের প্রথম ইট পাথরের তৈরি স্থাপত্য নিদর্শন হল আহসান মঞ্জিল।আহসান মঞ্জিল ছিল ঢাকার নবাবদের প্রাসাদ। বর্তমানে এটি জাদুঘর হিসাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এর প্রতিষ্ঠাতা নওয়াব আবদুল গণি। তিনি তার পুত্র খাজা আহসানুল্লাহ-র নামানুসারে এর নামকরণ করেন।১৮৫৯ খ্রিস্টাব্দে আহসান মঞ্জিলের নির্মাণ কাজ শুরু হয়ে ১৮৭২ খ্রিস্টাব্দে সমাপ্ত হয়। ১৯০৬ খ্রিস্টাব্দে এখানে এক অনুষ্ঠিত বৈঠকে মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত হয়।

এই প্রাসাদের ছাদের উপর সুন্দর একটি গম্বুজ আছে। এক সময় এই গম্বুজের চূড়াটি ছিল ঢাকা শহরের সর্বোচ্চ। মূল ভবনের বাইরে ত্রি-তোরণবিশিষ্ট প্রবেশদ্বারও দেখতে সুন্দর। একইভাবে উপরে ওঠার সিঁড়িগুলোও সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করে। পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তে দু’টি মনোরম খিলান আছে যা সবচেয়ে সুন্দর। আহসান মঞ্জিলের অভ্যন্তরে দু’টি অংশ আছে। বৈঠকখানা ও পাঠাগার আছে পূর্ব অংশে। পশ্চিম অংশে আছে নাচঘর ও অন্যান্য আবাসিক কক্ষ। নিচতলার দরবারগৃহ ও ভোজন কক্ষ রয়েছে। বর্তমানে এটি জাদুঘর হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। আহসান মঞ্জিলের রঙ্গমহলের ২৩ টি কক্ষে ৪ হাজার ৭৭ টি নিদর্শন রয়েছে।

birbangla.com
আহসান মঞ্জিল

জাতীয় জাদুঘর


জাতীয় জাদুঘর রাজধানী ঢাকার শাহাবাগ মোড়ে বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল বিস্ববিদ্যালয়, রমনা পার্ক, ও চারুকলা ইন্সটিটিউট এর পাশে অবস্থিত। ১৯১৩ সালে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের  একটি কক্ষে স্থাপিত হলেও ১৯৮৩ সালের ১৭ই নভেম্বর এটি আনুষ্ঠানিক ভাবে প্রতিষ্ঠা লাভ করে।জাদুঘরে ৪৬ টি গ্যালারীতে প্রায় ৮৩ হাজার এর ও বেশি নিদর্শন আছে। এটি দক্ষিন এশিয়ার সর্ব বৃহৎ যাদুঘর হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেছে। সপ্তাহের বৃহস্পতিবার ও সরকারী ছুটির দিন ব্যাতিত সব দিন যাদুঘর খোলা থাকে । তবে ২১শে ফেব্রুয়ারি, পহেলা বৈশাখ ইত্যাদি বিশেষ দিন গুলো দর্শনার্থীদের জন্য উন্মোক্ত থাকে। জাদুঘরে প্রতিদিন গড়ে ২০০০ এর বেশি দর্শনার্থী আসেন। এদের মধ্যে বিদেশিরাও আছেন । দর্শনার্থীর পরিমান প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ২০ টাকা এবং অপ্রাপ্ত বয়স্কদের জন্য ১০ টাকা।  বিদেশীদের জন্য ১০০ টাকা। তবে সার্কভুক্ত দেহস্রে দর্শনার্থীদের জন্য ২০ টাকার টিকিটেই প্রবেশাধিকার পাবেন। বাংলাদেশের যুগ যুগ ধরে বেড়ে উঠার সমস্থ স্মৃতি চিহ্ন ধারাবাহিকতার সাথে আগলে রেখে চলা জাতীয় জাদুঘর থেকে আপনি আপনার প্রিয়জনদেন নিয়ে ঘুরে আসতে পারেন।

birbangla.com
জাতীয় জাদুঘর

মৈনট ঘাট


দোহার উপজেলার মৈনট ঘাট বর্তমানে “মিনি কক্সবাজার” নামে পরিচিত। ঢাকার নবাবগঞ্জ থেকে সোজা একটি রাস্তা এসে মিলেছে দোহারের মৈনট ঘাটের সাথে। পদ্মার এক পাড়ে দোহার এবং অপর পাড়ে ফরিদপুর। ঘাটের পুর্ব পাশে বিশাল চর মানুশ কে সাগরের বেলা ভূমির কথা মনে করিয়ে দেয় । আর সামনের বিস্তির্ন পদ্মা পায় সাগরের রুপ। যে কেউ চাইলে এখান থেকে নৌযান করে পদ্মার বুকে ঘুরে আসতে পারেন কিংবা পদ্মার পাড়ে হেটে বেড়াতে পারেন ইচ্ছা মত। যেহেতু এটি ঢাকার অদুরে এবং দিনে গিয়ে ফিরে আসা যায় তাই প্রতিদিনই বাড়ছে দর্শনার্থীর সংখ্যা। চাইলে আপনি ঘুরে আসতে পারেন এই মিনি কক্সবাজার থেকে।

birbangla.com
মৈনট ঘাট

পরিশেষে বলতে চাই, আমাদের রাজধানী ঢাকার কিন্তু দেখার শেষ নাই, কিন্তু আমরা অনেকেই জানি না কোথায় কি আছে । তাই সবার ধারনা দেওয়ার জন্য আজকের এই আয়োজন । আপনাদের সকল প্রকার মতামত, অভিযোগ কিংবা পরামর্শ আমাদের কমেন্ট বক্সে লিখে জানাবেন। আশা করি খুব শিগগিরি ঢাকার দর্শনীয় স্থান সমূহ এর ২য় পর্ব নিয়ে হাজির হবো ।

আমাদের ভ্রমণ বিষয়ক সকল পোস্ট দেখুন – ভ্রমন  গাইড ও দর্শনীয় স্থান -বীরবাংলা

আমাদের  সকল চাকরির খবর দেখুন – চাকরির খবর -বীরবাংলা

ঢাকার আশেপাশে ভ্রমণের জায়গা, গাজীপুরে ঘোরার জায়গা,ঢাকা সুন্দর জায়গা,ঢাকায় কোথায় ঘুরতে যাওয়া যায়, ঢাকার দর্শনীয় স্থানের তালিকা, ঢাকার আশেপাশের দর্শনীয় স্থান, বেড়াতে যাওয়ার জায়গা, মিরপুরের দর্শনীয় স্থান,পুরনো ঢাকার দর্শনীয় স্থানসমূহ,ধানমন্ডি দর্শনীয় স্থান,ঢাকা মিরপুরের দর্শনীয় স্থান, মোহাম্মদপুর দর্শনীয় স্থান, ঢাকা বিভাগের দর্শনীয় স্থান, মিরপুরে ঘোরার জায়গা,বিরবাংলা ভ্রমণ গাইড,বীরবাংলা দর্শনীয় স্থান,

সিলেট মাজার শরীফ | শাহজালাল মাজারের ইতিহাস পর্ব

সিলেট মাজার শরীফ

ভারতীয় উপমহাদেশের বিখ্যাত সুফি দরবেশের নাম মাথায় আসলে প্রথম যার কথা মনে পড়ে তিনি হলেন হযরত শাহজালাল (রঃ)। এই আল্লাহওয়ালা মানুষটির জন্ম তুর্কি দেশের কনিয়াতে। পুরো নাম শেখ শাহ জালাল কুনিয়াত মুজাররদ। ধারণা করা হয় তিনি ১৩০৩ ইংরেজী সালে সিলেট অঞ্চলে আসেন যখন তার বয়স ছিলো ৩২ বছর। তিনি সুদীর্ঘ পথ পাড়ি দেন শুধুমাত্র ইসলাম প্রচারের উদ্দেশ্যে

প্রথমত সিলেটে শুরু হওয়া তার ইসলাম প্রচার দিন কে দিন বাড়তে থাকে ফলে একসময় সিলেট বিজয় করেন।  পরে হজরত শাহ জালালের সঙ্গী-অনুসারীদের মধ্য হতে অনেক পীর-দরবেশ- বংশধরগণ সিলেট সহ বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে গিয়ে বসবাস করেন। অবশ্য সিলেটের প্রথম মুসলমান শেখ বুরহান উদ্দিন।  রাজা গৌরগোবিন্দের অত্যাচার করতো তার উপর। এই সব কাহিনী ও জরত শাহজালালের সফরসঙ্গী ৩৬০ জনসহ আউলিয়ার সিলেট আগমন ইতিহাসের একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা। তাঁর মৃত্যুর পর তাঁকে সিলেটেই কবর দেয়া হয়।

নগর সিলেটের প্রায় মধ্যখানে টিলার উপর চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন হযরত শাহজালাল (রহ:) । তার মাজার জেয়ারতের জন্য দেশের নানা প্রান্ত থেকে প্রতিদিনইধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে হাজার হাজার মানুষ সিলেট আসেন।সিলেটকে অনেকেই পূণ্যভূমি হিসেবে অভিহিত করেন কারন তাহার মত পীরে কামেল এই মাটিতে চিরনিদ্রায় শুয়ে আছেন । তাকে  ওলিকুল শিরোমণি আখ্যায়িত করা হয়ে থাকে।

হযরত শাহজালাল (র:) এর আধ্যাত্মিক শক্তি ও জ্ঞানের পরিচয় পেয়ে হযরত নিজামুদ্দিন আউলিয়া (র:) তাঁকে সাদরে গ্রহণ করেন।স্বজন ও ভ্রাতিত্ববোধের আলোকে তাঁকেএকজোড়া সুরমা রঙের কবুতর বা জালালী কবুতর উপহার দেন নিজামুদ্দিন আউলিয়া (র:)। শাহজালালের মাজার এলাকায় প্রতিদিন ঝাঁকেঝাঁকে কবুতর উড়তে দেখা যায় যা কিনা ঐ কবুতর জোড়ার বংশধর।

সিলেটের শাহজালাল (র.) এর মাজার চত্বরের উত্তরদিকে রয়েছে একটি পুকুর। এই পুকুরেআছে অসংখ্য গজার মাছ । শাহজালাল এর মাজারের পাশেই রয়েছে একটি কূপ। যেখানে সোনালি ও রুপালি মাছ দেখা যায়। এখানে পানির ফোয়ারা বসানো হয়েছে যা ২৪ ঘণ্টা পানি প্রবাহিত করে। মাজারের পশ্চিম দিকে অবশ্য মেইন ঝরনা দেখতে পাওয়া যায়।

ঢাকার বীর মুরাদ দানকৃত ৩ টি বিশাল আকারের ডেক রয়েছে, মাজারের পূর্ব দিকে রয়েছে। যদিও সেগুলোতে রান্না বান্না হয় না। এখন এখানে ভক্ত মুরিদ দর্শনার্থীরা দান করে থাকনে।

মাজারের দক্ষিণদিকে গ্রীলঘেরা তারকা খচিত ছোট্ট ঘরটি শাহজালালের চিল্লাখানা। স্থানটিমাত্র দু’ফুট চওড়া। কথিত আছে- হযরত শাহজালাল এই চিল্লাখানায় জীবনের ২৩বছর আরাধনায় কাটিয়েছেন।
দরগার পাশ্ববর্তী মুফতি নাজিমুদ্দিন আহমদেরবাড়িতে হযরত শাহজালালের তলোয়ার ও খড়ম সংরক্ষিত আছে। প্লেট ও বাটিসংরক্ষিত আছে দরগাহ’র মোতওয়াল্লির বাড়িতে।
সিলেট শহরে থাকার আবাসিক হোটেল:১।হোটেল মেট্রো ইন্টারন্যাশনাল (বন্দর, শিশুপার্কের কাছে): ০১৭৩১৫৩৩৭৩৩, +৮৮০৮২১২৮৩৩৪০৪২। হোটেল নির্ভানা ইন (রামের দিঘির পাড়, মির্জা জাঙ্গাল, সিলেট): +৮৮০৮২১২৮৩০৫৭৬, ০১৭৩০০৮৩৭৯০, ০১৯১১৭২০২১৩, ০১৭১১৩৩৬৭৬১৩। হোটেল স্টার প্যাসিফিক (ইস্ট দরগাহ গেইট): ০১৭১৩৬৭৪০০৯, ০১৯৩৭৭৭৬৬৩৩, ০৮২১-২৮৩৩০৯১৪। হোটেল অনুরাগ (ধোপা দীঘি নর্থ): ৭১৫৭১৭, ৭১৪৪৮৯, ০১৭১২০৯৩০৩৯৫। সুরমা ভ্যালি গেস্ট হাউস (জেলা প্রশাসক/পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের পাশে): ০১৭১৬০৯৫৮৩৬
৬। হোটেল উর্মি: হযরত শাহজালাল (র: ) মাজার শরীফ পূর্ব দরগাহ্ হেইট, সিলেট, ফোন: ০৮২১-৭১৪৫৬৩, ০১৭৩৩১৫৩৮০৫ খাওয়ার জন্য সিলেটের জিন্দাবাজারে বেশ ভালো কয়েকটি খাওয়ার হোটেল আছে।হোটেল গুলো হচ্ছে পাঁচ ভাই,পানশি,ভোজনবাড়ী,স্পাইসি ও পালকি।এছাড়া উনদাল, পূর্ব জিন্দাবাজার, সিলেট, ফোন: ০৮২১-২৮৩২১৯৭, ০১৭১৭০২০৫০৫,এক্সোটিকা রেস্টুরেন্ট, হোটেল সুপ্রীম, জাফলং রোড, মিরাবাজার, মোবাইল-০১৭১১১৯৭০১২,আলপাইন রেস্টুরেন্ট,চৌহাট্টা,সিলেট উল্লেখযোগ্য।
কিভাবে যাওয়া যায়: সিলেট রেল স্টেশন অথবা কদমতলী বাস স্ট্যান্ড এ নেমে রিকশা বা সিএনজি অটোরিকশাযোগে মাজারে যাওয়া যায়। রিকশা ভাড়া ২০-২৫ টাকা, সিএনজি ভাড়া ৮০-১০০ টাকা।সুরমা নদী পার হয়ে মূল শহরে এসে মাজার এ পৌছাতে হয়। পর্যটকরা রিক্সা অথবা সিএনজি যোগে যেতে পারেন। ভাড়া ৩০-৫০/- টাকা

 

শাহপরানের মাজার, ৩৬০ আউলিয়ার মাজার, শাহজালাল রহঃ জীবনী,শাহপরানের জীবনী,  গজার মাছের ছবি,শাহজালালের ইতিহাস,হযরত শাহ পরানের মাজার, ৩৬০ আউলিয়ার দেশ,360 আউলিয়ার দেশ,Hazrat Shahjalal Mazar Sharif, শাহজালাল মাজার সিলেট, সিলেট মাজার শরীফ, শাহজালাল মাজারের ইতিহাস, শাহজালালের ইতিহাস, সিলেটের ঐতিহাসিক স্থান সমূহ, সিলেট বিভাগের দর্শনীয় স্থান সমূহ, সিলেট ভ্রমণ গাইড, সিলেটের ঐতিহাসিক স্থান সমূহ, আউলিয়ার কেরামতি,হযরত শাহজালালের মাজার,হযরত শাহজালালের দরগাহ, হযরত শাহজালাল (রঃ) মাজার