মোটর সাইকেল ড্রাইভিং লাইসেন্স করুন,চেক করুন ও নবায়ন করুন

মোটর সাইকেল ড্রাইভিং লাইসেন্স করুন,চেক করুন ও নবায়ন করুন

ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া ড্রাইভিং করা দন্ডনীয় অপরাধ। যারা বাইক বা মোটরসাইকেল ড্রাইভিং করে থাকে তাদের জন্য লাইসেন্স থাকাটা জরূরী। মোটরবাইকের জন্য সেটা আরো জরূরী। ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়া এখন অনেক সহজ । কিছু সহজ স্টেপ ফলো করে ড্রাইভিং লাইসেন্স করা যায়।

মোটরযান লাইসেন্স কর্তৃপক্ষ বিআরটিএ মোতাবেক লাইসেন্স ৫ প্রকার। যেমনঃ

1. শিক্ষানবীশ লাইসেন্স

2. পেশাদার লাইসেন্স

3.অপেশাদার লাইসেন্স

4.পি.এস. ভি লাইসেন্স

5.ইনস্ট্রাকটর লাইসেন্স

 

আমরা শুধুমাত্র মোটর সাইকেলের জন্য প্রযোজ্য শিক্ষনবীশ ও অপেশাদার লাইসেন্স নিয়ে আলোচনা করব।

 

ড্রাইভিং লাইসেন্সের পূর্বশর্ত হলো লার্নার বা শিক্ষানবিশ ড্রাইভিং লাইসেন্স। আপনাকে প্রথমে লার্নার বা শিক্ষানবিশ ড্রাইভিং লাইসেন্স-এর জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ আবেদন করতে হবে। মোটর সাইকেলের ড্রাইভিং লাইসেন্স এর জন্য আপনার বয়স অবশ্যই ১৮ হতে হবে। বিআরটিএ এর সূত্র মত্র পেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স-এর জন্য বয়স ন্যূনতম ২০ বছর এবং অপেশাদার এর জন্য ন্যূনতম ১৮ বছর হতে হবে।

 

লার্নার বা শিক্ষনবিশ ড্রাইভিং লাইসেন্স এর জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র:

 ১। নির্ধারিত ফরমে আবেদন ও রেজিষ্টার্ড ডাক্তার কর্তৃক মেডিকেল সার্টিফিকেট। ডাউনলোড ঠিকানাঃ http://goo.gl/Vyhlha

২। ন্যাশনাল আইডি কার্ড / জন্ম সনদ/পাসপোর্ট এর সত্যায়িত ফটোকপি।

৩। নির্ধারিত ফী, ১ ক্যাটাগরি-৩৪৫/-টাকা ও ২ ক্যাটাগরি-৫১৮/-টাকা বিআরটিএ’র নির্ধারিত ব্যাংকে (আপনার নিকটস্থ ব্যাংক এর তালিকা http://goo.gl/lcruLC –তে পাওয়া যাবে) জমাদানের রশিদ।

৪। সদ্য তোলা ০৩ কপি স্ট্যাম্প ও ০১ কপি পাসপোর্ট সাইজ ছবি।

 

পদ্ধতিঃ প্রথমে ইন্টারনেট থেকে আবেদন ফরম ডাউনলোড করে অথবা স্থানীয় বিআরটিএ এর অফিস থেকে সংগ্রহ করে আবেদনপত্র পূরন করুন। রেজিস্টার্ড ডাক্তার কর্তৃক সংযুক্ত মেডিকেল সার্টিফিকেট সত্যায়িত করুন। সদ্য তোলা ০৩ কপি স্ট্যাম্প ও ০১ কপি পাসপোর্ট সাইজ ছবি ফর্মের নির্ধারিত স্থানে স্ট্যাপলার দিয়ে সংযুক্ত করুন। ওয়েবসাইট থেকে জেনে নিকটস্থ নির্ধারিত ব্যাংকে গিয়ে ৩৪৫।- টাকা আপনার নামে (ন্যাশনাল আইডি কার্ড/জন্ম সনদ/পাসপোর্টে যেভাবে লিখা আছে) জমা দিন। এবার ন্যাশনাল আইডি কার্ড/জন্ম সনদ/পাসপোর্ট এবং ব্যাংকে টাকা জমাদানের রশিদ ফরমের সাথে স্ট্যাপলার দিয়ে সংযুক্ত করে নিকটস্থ বিআরটিএ (http://www.brta.gov.bd/ থেকে ব্র্যাঞ্চের ঠিকানা দেখে নিন) অফিসে গিয়ে সকাল ৯.০০ টা হতে বেলা ১.০০ টার মধ্যে আবেদন ফরম জমা দিন। ফরম জমা দেওয়ার লাইন একেবারে ছোট। সর্বোচ্চ ৩০ মিনিট সময় লাগতে পারে। ফরম জমা দিলে আপনার নামে লার্নার বা শিক্ষনবীশ ড্রাইভিং লাইসেন্স ইস্যু করা হবে, যা আপনি পরবর্তী দিন সংগ্রহ করতে পারবেন।

 

ড্রাইভিং পরীক্ষাঃ লার্নার বা শিক্ষনবীশ ড্রাইভিং কার্ডে পরীক্ষার স্থান, তারিখ ও সময় দেয়া থাকবে। সাধারণত ৩-৪ মাস পরের সময় দেয়া থাকে। তবে আপনি এর মধ্যে আপনার সুবিধামত সময়েও পরীক্ষা দিতে পারেন। সেক্ষত্রে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষা স্থানে খোঁজখবর নিয়ে যেকোন পরীক্ষার দিন উপস্থিত হয়ে আপনার নাম ঐ তারিখে ইস্যু করতে হবে।

 

নির্ধারিত তারিখে আবেদনকারীকে নিম্নোক্ত পরীক্ষাগুলোতে অংশ গ্রহণ করতে হবে।

ক. লিখিত পরীক্ষা খ. মৌখিক পরীক্ষা গ. ব্যবহারিক পরীক্ষা

 

ক. লিখিত পরীক্ষাঃ নির্ধারিত দিনে উপস্থিত হয়ে সকাল ৯.০০-১২.০০ টার মধ্যে (অধিকাংশ ক্ষেত্রে) লিখিত পরীক্ষা দিতে হবে।

সময়ঃ ২০ মিনিট

পূর্ণমানঃ ২০ (সংক্ষিপ্ত প্রশ্নঃ ৬  নম্বর,  নৈর্ব্যত্তিক প্রশ্নঃ ৮ নম্বর,  ইঞ্জিন মেকানিজমঃ ৬ নম্বর)

পাশ নম্বরঃ ১২ তবে ইঞ্জিন মেকানিজম এ অবশ্যই ২ পেতে হবে।

 

প্রস্তুতিঃ

নৈর্ব্যত্তিক প্রশ্নের জন্যঃ www.brta.gov.bd/images/questions/MCQ_question.pdf

সংক্ষিপ্ত ও ইঞ্জিন মেকানিজমের জন্যঃ www.brta.gov.bd/images/questions/question_bank.pdf

পরীক্ষার ডেমো প্রশ্নপত্রঃ www.brta.gov.bd/images/driving_license/Specimen_Question_for_Driving_License.pdf

আপনি ছাত্র হলে লিখিত পরীক্ষা আপনার জন্য খুবই সহজ। মাত্র একঘন্টা প্রস্তুতি যথেষ্ট। কারন উপরোক্ত পিডিএফ গুলোর বাইরে সাধারনত প্রশ্ন আসবে না।

 

খ. মৌখিক পরীক্ষাঃ উক্ত দিনেই দুপুর ১২.০০-৪.০০ টার মধ্যে (অধিকাংশ ক্ষেত্রে) মৌখিক পরীক্ষা দিতে হবে।

সিলেবাসঃ www.brta.gov.bd/index.php/traffic-signs ঠিকানায় ৫০ টির মতো রোড সাইন রয়েছে। এগুলো মুখস্ত করে যেতে হবে। মৌখিক পরীক্ষায় এর বাইরে প্রশ্ন করবে না। ফলে খুব সহজেই মোখিক পরীক্ষায় পাশ করা যায়।

গ. ব্যবহারিক পরীক্ষাঃ উক্ত দিনেই দুপুর ২.০০-৫.০০ টার মধ্যে (অধিকাংশ ক্ষেত্রে) ব্যবহারিক পরীক্ষা দিতে হবে। ব্যবহারিক পরীক্ষায় মূলত মোটর সাইকেলের উপর আপনার কন্ট্রোল পরীক্ষা করা হয়। মূলত জিগজ্যাগ টাইপের টেস্ট থাকে।

চিত্রঃ

এই আটটি খুঁটির মধ্যদিয়ে খুঁটি না ছুঁয়ে এবং পা না ফেলে আপনাকে নিচের চিত্রের মত করে জিগজ্যাগ পার হতে হবে। কোনভাবে খুঁটিতে মোটর সাইকেল কিনবা আপনার পা স্পর্শ করলে কিনবা আপনার পা মাটিতে পড়ে গেলেই আপনি ডিসকোয়ালিফাই।

মূলত এই পরীক্ষাতেই অধিকাংশজন অকৃতকার্য হন।

ফিল্ড টেস্টে পাশ করার টিপসঃ আপনি পরীক্ষা দিতে যাবার আগে মাঠে একইভাবে দাগ টেনে নিজে ভালভাবে না পারা পর্যন্ত প্র্যাক্টিস করুন। বিশেষ করে শেষ গোলক চক্রটির ক্ষেত্রে একটু বেশী বাঁক নিয়ে ঘুরুন।

তিনটি পরীক্ষায় আপনি পাশ করে গেলে, আপনার কার্ডের নিচে তারা তিনবার পাশ লিখে জমা নিয়ে নিবে, কয়েকদিন পর আবার আপনাকে কার্ডটি ফেরত দিবে।

 

লিখিত, মৌখিক ও ফিল্ড টেস্ট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর স্মার্টকার্ড ড্রাইভিং লাইসেন্স এর জন্য নিম্নোক্ত কাগজপত্র নিয়ে আবার বিআরটিএ অফিসে যেতে হবে।

 

স্মার্টকার্ড ড্রাইভিং লাইসেন্স-এর জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র:

  ১। নির্ধারিত ফরমে আবেদন। ডাউনলোড লিঙ্কঃ http://goo.gl/HtFh5F

২। রেজিষ্টার্ড ডাক্তার কর্তৃক মেডিকেল সার্টিফিকেট। ডাউনলোড লিঙ্কঃ http://goo.gl/9azK7F

৩। ন্যাশনাল আইডি কার্ড / জন্ম সনদ/পাসপোর্ট এর সত্যায়িত ফটোকপি।

৪। নির্ধারিত ফী (অপেশাদার- ২৩০০/-টাকা) বিআরটিএ’র নির্ধারিত ব্যাংকে জমাদানের রশিদ।

৫। সদ্য তোলা ১ কপি পাসপোর্ট সাইজ ছবি।

৬। লার্নার বা শিক্ষনবীশ কার্ড

 

এরপর আপনাকে একটি নির্দিষ্ট তারিখে গিয়ে বায়োমেট্রিক্স (ডিজিটাল ছবি, ডিজিটাল স্বাক্ষর ও আঙ্গুলের ছাপ) গ্রহণপূর্বক স্মার্ট কার্ড ইস্যু করতে হবে। স্মার্ট কার্ড ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রিন্টিং সম্পন্ন হলে আপনাকে এসএমএস এর মাধ্যমে তা গ্রহণের বিষয়টি জানিয়ে দেয়া হয়। নির্দিষ্ট দিনে গিয়ে আপনাকে ড্রাইভিং স্মার্ট কার্ড নিয়ে আসতে হবে।

যে ধরনের ব্যক্তি লাইসেন্স প্রাপ্তির ক্ষেত্রে অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন

1. পেশাদার ও অপেশাদার লাইসেন্স প্রাপ্তির ক্ষেত্রে যাঁদের বয়স (পেশাদার ২০ এবং অপেশাদার ১৮) নির্ধারিত বয়স অপেক্ষা কম।

2.কমপক্ষে অষ্টম শ্রেণী বা সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ নন।

3. ক্ষিপ্রতাগ্রস্ত ব্যক্তি ও মৃগী রোগী, বধির, রাতকানা, হৃদরোগী. বর্ণান্ধ

4.যেসব ব্যক্তি শারীরিক অক্ষমতা/শারীরিক স্বল্পতা/ত্রুটির কারণে গাড়ি চালনায় অযোগ্য।

5.শিক্ষানবিশ ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়ার পদ্ধতি

6.বিআরটিএ অফিস থেকে ছাপানো নির্ধারিত আবেদন ফরমে আবেদন করতে হবে।

7.একজন রেজিস্টার্ড ডাক্তার কর্তৃক শারীরিক ফিটনেস সার্টিফিকেট ও রক্তের গ্রুপ ফরমে উল্লেখ থাকতে হবে।

*নির্ধারিত আবেদন ফি স্থানীয় পোস্ট অফিসে জমা দিতে হবে।

* আবেদনপত্র সদ্য তোলা পাসপোর্ট সাইজের তিন কপি ছবিসহ বিআরটিএ অফিসে জমা দিতে হবে।

ই ছিলো মোটরসাইকেল বা গাড়ির ড্রাইভিং লাইসেন্স করার ধাপসমূহ এবং খরচসমূহ। আশা করি যারাই এখনো ড্রাইভিং লাইসেন্স করেননি, তারা ড্রাইভিং লাইসেন্স করে রাস্তায় ড্রাইভ করবেন, এবং যেকোন প্রকার আইনী ঝামেলা থেকে মুক্ত থাকবেন।

 

বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ  হ্যাঁ, এত্ত ঝামেলা না করেই মাত্র ৮-১০ হাজার টাকা খরচ করে দালাল ধরে বাসায় বসেই নাকি স্মার্ট কার্ড করা যায়।

দেশের ও বিদেশের দর্শনীয় স্থান সম্পর্কে জানতে ক্লিক করুন এখানেঃ ভ্রমণ ও দর্শনীয় স্থান

স্বাস্থ্য সম্পর্কে যেকোন পরামর্শ পেতে ক্লিক করুন এখানেঃ স্বাস্থ্য  কর্নার

সরকারি বেসরকারি যেকোনো ধরনের চাকরির খবর পেতে ক্লিক করুন এখানেঃ চাকরির খবর

পড়াশোনার ব্যাপারে বিভিন্ন পরামর্শ পেতে ক্লিক করুন এখানেঃ স্টাডি পয়েন্ট


মোটর সাইকেল ড্রাইভিং লাইসেন্স,মোটর সাইকেল ড্রাইভিং লাইসেন্স ফি,মোটর সাইকেল ড্রাইভিং লাইসেন্স করার নিয়ম,মোটর সাইকেল ড্রাইভিং লাইসেন্স ফরম,মটর সাইকেল ড্রাইভিং লাইসেন্স,মোটর সাইকেলের ড্রাইভিং লাইসেন্স,মটর সাইকেল ড্রাইভিং লাইসেন্স ফি

Leave a Comment

You cannot copy content of this page