কলকাতা থেকে কেদারনাথ ভ্রমণ খরচ কত? বিস্তারিত

কেদারনাথ  নিয়ে সমস্ত তথ্য এর আগে আপনারা হয়তো কোথাও পাননি। আপনাদের সুবিধার্থে বাঙালির বেড়ানো গ্রুপে এই প্রথম সব খুঁটিনাটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হলো। তবুও যদি আপনার মনে আরও কিছু প্রশ্ন থাকে অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন।

কেদারনাথ এই ট্যুরে আমি বিশেষ করে বয়স্ক মানুষদের জন্যেই একটা ট্রাভেল প্লান দেওয়ার চেষ্টা করছি। একটু আরামে ঘুরে বেড়াতে চাইলে এই প্লানে যেতে পারেন। হয়তো এতে খরচ তুলনামূলক ভাবে একটু বাড়বে, তবে আরামদায়ক ভাবে ঘুরলে সময় ও অর্থ একটু তো খরচ করতেই হবে। আসলে বয়স্ক মানুষদের কাছে কেদারনাথ দর্শন জীবনের সবচেয়ে আকাঙ্খিত একটা ট্যুর বলতে পারেন। তাই খরচ সামান্য একটু বেশি হলেও এই প্লানে আপনাদের শারীরিক কষ্ট অনেকটাই কম হবে।

পছন্দের এলাকায় পার্টটাইম/ফুলটাইম চাকরি খুঁজে পেতে এই অ্যাপটি ইন্সটল করে এখনই আবেদন করুন

কলকাতা থেকে কেদারনাথ ভ্রমণ বিস্তারিত

আর সস্তায় ট্যুর করতে হলে যাঁরা চারধাম গ্রুপ ট্যুর করান, তাঁদের সাথে গ্রুপে যেতে পারেন। এতে অনেক জায়গায় এডজাস্ট করতে হবে সাথে জার্নিও বেশ খানিকটা বেশি হবে। এই গ্রুপ ট্যুর গুলিতে দিন সংখ্যা কমিয়ে খরচ কমানো হয়। তাই প্রতিদিনই 7/8 ঘন্টা পাহাড়ি রাস্তায় জার্নি করতে হয়। তবে সস্তায় কিভাবে ঘুরবেন সেই প্লান না হয় আরেকদিন দিয়ে দেব। এখন আমি আমার মত করে একটা প্লান দিচ্ছি। দেখুন এই ট্রাভেল প্লান আপনাদের কাজে লাগে কিনা?

হরিদ্বার থেকে কেদারনাথ:

কিভাবে যাবেন: কেদারনাথ ধাম বেড়াতে যেতে হলে জার্নি শুরু করতে হয় হরিদ্বার বা দেরাদুন থেকে।

ট্রেন: কলকাতা থেকে হরিদ্বার পৌঁছাতে ট্রেনে প্রায় 27 ঘন্টা সময় লাগে, তবে সবচেয়ে কম সময়ের ভালো ট্রেন বলতে উপাসনা এক্সপ্রেসই বেস্ট। এছাড়া কলকাতা থেকে ট্রেনে দিল্লি হয়ে সেখান থেকে হরিদ্বার গাড়িতে বা ট্রেনে যেতে পারেন।

বিমানে: আবার কলকাতা থেকে সরাসরি বিমানে দেরাদুন পৌঁছে সেখান থেকেও জার্নি শুরু করতে পারেন।

কলকাতা থেকে বিমানে দিল্লি: ভাড়া: 3000/- -3500/- টাকা (মাথাপিছু)।

কলকাতা থেকে বিমানে দেরাদুন: ভাড়া: 5000/- -6000/- টাকা (মাথাপিছু)।

কলকাতা থেকে হরিদ্বার: ট্রেনের টিকিট – 3 AC : 1735/- টাকা (মাথাপিছু)।

দিল্লি থেকে হরিদ্বার যাওয়ার ট্রেন ও গাড়ি দুই রকম ব্যবস্থাই আছে। ট্রেনে গেলে কিছুটা সস্তা হবে তবে 6 জনের টিম থাকলে একটি বড় গাড়িতে 1000/- টাকা মাথাপিছু খরচ হবে।

কেদারনাথ কবে খুলবে:

এবারে আসি ট্রাভেল প্লান নিয়ে; আমি এই প্লান হরিদ্বার থেকে শুরু করে হরিদ্বারে শেষ করবো। কলকাতা থেকে হরিদ্বার যাওয়া আসা আপনারা হিসাব করে নেবেন। কারণ কে কোন মাধ্যমে হরিদ্বার পৌঁছাবেন সেটা তাঁদের নিজস্ব।

প্রথম দিন: হরিদ্বার থেকে গুপ্তকাশি (208 কিমি – সময় লাগবে 6 ঘন্টা থেকে 7 ঘন্টা মত)। রাত্রি বাস গুপ্তকাশি তেই।

দ্বিতীয় দিন: গুপ্তকাশি থেকে শোনপ্রয়াগ (30 কিমি- সময় লাগবে 1 ঘন্টা 30 মিনিট), সেখান থেকে শেয়ার গাড়িতে গৌরিকুন্ড। এই গৌরিকুন্ড থেকেই কেদারনাথ ট্রেক শুরু হবে। গৌরিকুন্ড থেকে কেদারনাথ মন্দিরের দূরত্ব এখন প্রায় 23 কিমি এবং একজন সুস্থ সবল মানুষ এই রাস্তা 7 থেকে 8 ঘন্টায় অতিক্রম করে থাকেন।

এই রাস্তায় ট্রেক যাঁরা করতে পারবেন না, তাঁরা ঘোড়া বা ডুলির সাহায্য নিতে পারেন। খরচ মাথাপিছু 3000/- -4500/- টাকা।

তবে বয়স্ক মানুষদের ক্ষেত্রে এই দুটোই বেশ কষ্টদায়ক। তাই আমার পরামর্শ আপনারা যাঁরা একটু খরচ করতে সক্ষম তাঁরা জনপ্রতি 6000/- টাকা খরচ করে হেলিকপ্টার সার্ভিস নিতে পারেন। হেলিকপ্টার পাওয়া যাবে ফাটা ও সেরসি থেকে, যদিও গুপ্তকাশি থেকেও হেলিকপ্টার পাওয়া যায়, তবে তাতে খরচ আরেকটু বাড়বে।

  কেদারনাথ মন্দিরের রহস্য:

অনেকেই বলেন পুজোর সময় হেলিকপ্টারের টিকিট খুব সহজেই স্পটে পৌঁছে পাওয়া যায়, তবে সেটা সবসময় নিশ্চিত নয়, হয়তো কখনও কয়েক ঘন্টা অপেক্ষা করতে হবে। তাই আমার পরামর্শ হেলিকপ্টারের টিকিট অগ্রিম বুকিং করে যাওয়ায় ভালো।

এইদিন রাত্রিবাস কেদারনাথ মন্দিরের কাছের কোনো হোটেলে, লজে বা আশ্রমে। এক্ষেত্রে GMVN এর ট্যুরিস্ট রেস্ট হাউস (TRF), GMVN কটেজ ও টেন্ট সব রকম ব্যবস্থায় আছে।

তৃতীয় দিন: 
কেদারনাথ মন্দির দর্শন করে ফিরে আসবেন সিতাপুরে। যাঁরা ট্রেক করে উঠবেন বা নামবেন তাঁরা সেইদিন সিতাপুরেই রাত্রিবাস করবেন। সিতাপুরে অনেক হোটেল আছে, গাড়ি ওয়ালাকে বললে সেই কোনো না কোনো হোটেলে নিয়ে যাবেন। এক্ষেত্রে অনলাইনে আগে থেকে কিছু হোটেলের নাম দেখে রাখতে পারেন। আর যাঁরা হেলিকপ্টারে ফিরবেন তাঁরা গাড়ি নিয়ে এগিয়ে চলুন 65 কিমি দূরের চোপতা ভ্যালির দিকে। চোপতা ভ্যালির কিছুটা আগে বানিয়াকুণ্ডে থাকুন, কারণ এখানে যেসব টেন্ট আছে সেগুলো তুলনামূলক ভাবে চোপতার থেকে কিছুটা ভালো পরিষেবা যুক্ত। তবে রেট প্রায় 1500/- -1800/- টাকা মাথাপিছু (থাকা ও খাওয়া সমেত – নিরামিষ খাবার)। তাই আমার পরামর্শ চোপতা থেকে আধা ঘন্টা আগে বানিয়াকুণ্ডে টেন্ট হাউসে রাত্রি যাপন করুন।

কেদারনাথ যাত্রা:

একটা কথা বলে রাখি উত্তরাখন্ডেই চোপতা বলে দুটি জায়গা আছে, তবে আমরা চোপতা মিনি সুইজারল্যান্ড নামে যেটি পরিচিত, সেই জায়গায় যাবো। এইখান থেকেই 3.5 কিমি ট্রেক করে দেখে নিতে পারেন পঞ্চ কেদার এর একটি তুঙ্গনাথ মন্দির। খুব বয়স্ক বা হাঁটুর খুব ব্যাথা আছে এমন কেউ তুঙ্গনাথ না যাওয়ায় ভালো। উঠা নামা নিয়ে এই ট্রেক করতে মন্দির দর্শন করতে প্রায় সাড়ে চার থেকে 5 ঘন্টা সময় লাগবে। তাই বানিয়াকুন্ড থেকে খুব সকালে বেড়িয়ে পড়তে হবে। টেন্ট হাউস অনলাইনে দেখে বুক করতে পারেন।

চতুর্থ দিন: যাঁরা সিতাপুরে আগের রাত্রে ছিলেন তাঁরা গাড়ি নিয়ে বেড়িয়ে পড়বেন 180 কিমি দূরের জসিমঠের উদ্দেশ্যে, সময় লাগবে গাড়িতে 7 ঘন্টা মত। আর যাঁরা তুঙ্গনাথ দেখতে যাবেন যাঁরা আগের দিন বানিয়াকুণ্ডে রাত্রি যাপন করছেন তাঁরা 100 কিমি দূরের জসিমঠে পৌঁছাবেন, সময় লাগবে প্রায় সাড়ে 4 ঘন্টা। রাত্রিবাস জসিমঠে। এখানেও GMVN এর দুটি রেস্ট হাইস আছে। এই জায়গায় বুক করতে পারেন। থাকার খরচ অন্যান্য হোটেলের তুলনায় একটু বেশি। তবে এখানে আরও অনেক বেসরকারি হোটেল পেয়ে যাবেন।

কেদারনাথ ভ্রমণ গাইড:

পঞ্চম দিন: জসিমঠ থেকে বদ্রিনাথ মন্দির যাওয়া। দূরত্ব প্রায় 50 কিমি সময় লাগবে প্রায় আড়াই ঘণ্টা মত। সেইদিন বদ্রিনাথ মন্দির দর্শন করুন আর আশে পাশে হেঁটে ঘুরে বেড়ান। রাত্রিবাস বদ্রিনাথে, এখানেও GMVN REST হাউস ছাড়াও অনেক ছোট বড় হোটেল পেয়ে যাবেন।

ষষ্ঠ দিন0
: বদ্রিনাথ থেকে মানা গ্রাম ঘুরে আসুন। স্বরস্বতী নদীর উৎসস্থল বেশ দেখার মত একটি জায়গা। এই মানা গ্রাম যাওয়ার রাস্তা অপূর্ব সুন্দর তাই এটা মিস করবেন না। এটি ভারত ও চীন সীমানার সবচেয়ে শেষ গ্রাম। আজও রাত্রিবাস বদ্রিনাথেই।

সপ্তম দিন: বদ্রিনাথ থেকে আউলি (Auli) যান, দূরত্ব 55 কিমি, সময় লাগবে প্রায় তিন ঘন্টা। এই আউলি জায়গাটিও পাহাড় প্রেমীদের কাছে অসম্ভব সুন্দর লাগবে। GMVN SKI RESORT এ বুকিং করতে পারেন। এই রিসোর্ট পর্যন্ত গাড়ি পৌঁছে যাবে। আউলি জায়গাটিও অপশনাল, আপনার ট্রাভেল লিস্টে নাও রাখতে পারেন, সেক্ষেত্রে বদ্রিনাথ থেকে সোজা কর্ণপ্রয়াগ বা রুদ্রপ্রয়াগে থাকুন। কর্ণপ্রয়াগ ও রুদ্রপ্রয়াগ এই দুই জায়গায় GMVN রেস্ট হাইস পেয়ে যাবেন। বদ্রিনাথ থেকে কর্ণ প্রয়াগ এর দূরত্ব 122 কিমি, সময় লাগবে 5 ঘন্টা মত। আর রুদ্রপ্রয়াগ 154 কিমি সময় লাগবে 6 ঘন্টা মত।

অষ্টম দিন: আউলি থেকে চলে আসুন কর্ণপ্রয়াগে, দূরত্ব 91 কিমি, সময় লাগবে 4 থেকে সাড়ে চার ঘণ্টা। রাত্রিবাস কর্ণপ্রয়াগে নদীর ধারের GMVN রেস্ট হাউসে।

নবম দিন: কর্ণপ্রয়াগ থেকে দেবপ্রয়াগ। অলকানন্দা ও ভাগীরথীর মিলন স্থল এটি তাই এই জায়গায় প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য অকল্পনীয়। দূরত্ব প্রায় 100 কিমি এবং সময় লাগবে সাড়ে 3 ঘন্টা মতন। রাত্রিবাস দেবপ্রয়াগে। যদিও দেব প্রয়াগে না থেকে সরাসরি ঋষিকেশ বা হরিদ্বার ফিরতে পারেন। কৰ্ণ প্রয়াগ থেকে ঋষিকেশের দূরত্ব 172 কিমি, সময় লাগবে 6 ঘন্টা মত।

দশম দিন: দেবপ্রয়াগ থেকে ঋষিকেশ বা হরিদ্বারে চলে আসুন। দূরত্ব ঋষিকেশ পর্যন্ত 75 কিমি আর হরিদ্বার 95 কিমি সময় লাগবে 3 থেকে সাড়ে 3 ঘন্টা। ঋষিকেশ বা হরিদ্বার পৌঁছে সন্ধ্যায় গঙ্গা আরোতি দেখুন একটু কেনাকাটা করুন আর সেই রাত্রি ওখানেই কাটান।

হরিদ্বার থেকে ট্রেনে কলকাতার উদ্দেশ্যে রওনা হন। আর যাঁরা বিমানে ফিরবেন তাঁরা দেরাদুন এয়ারপোর্ট চলে যান।

থাকবেন কোথায়: এই পুরো ট্যুরে থাকার জন্যে GMVN (গাড়োয়াল মন্ডল বিকাশ নিগম) এর রেস্ট হাউস আমার মতে সবচেয়ে ভালো।খরচ হয়তো একটু বেশি তবে পরিষেবা তুলনামূলক ভাবে খুব ভালো। অনলাইনে ও কলকাতার অফিস থেকে অফলাইনে এগুলি বুকিং হয়। তাই আপনার পছন্দ মত রুম সিলেক্ট করে বুকিং করে নিতে পারেন।

আমার মনে হয়, গাড়ি নিয়ে প্রত্যেক দিন হোটেল খোঁজার চেয়ে অগ্রিম বুকিং থাকলে আনন্দের সাথে ঘুরতে পারবেন। এই GMVN এর রেস্ট হাইসগুলিতে কোনো জায়গায় ECONOMY ক্লাসে 1000/- -1600/- টাকা আবার কোথাও 2750/- টাকায় সেমি ডিলাক্স বা ডিলাক্স রুম পাবেন। যদিও সুপার ডিলাক্স চাইলে আরও বেশি খরচ লাগবে। অর্থাৎ অনেক রকম রুম আছে সেগুলি একটু দেখে নিয়ে তবেই বুক করুন।

আর SOLO ট্রাভেলার দের জন্যে তো GMVN এর ডর্মিটোরি সবচেয়ে ভালো ও সস্তা, 300/- -400/- টাকা মাথাপিছু খরচে একটি করে সিঙ্গল বেড পেয়ে যাবেন। যাঁরা ফ্যামিলি নিয়ে ডর্মিটোরি তে থাকতে চান, সেটাও সম্ভব কোনো সমস্যা নেই, সব জায়গায় মহিলা পুরুষ আলাদা আলাদা রুমে থাকতে হবে।

এই GMVN এর আরেকটা সুবিধা হলো এইখানে নিজস্ব রেস্টুরেন্ট আছে আর রিজনেবল্ প্রাইসে ভালো খাবার পাওয়া যায়। বাইরে খেলে খরচ হয়তো একটু কমবে তবে খাবারের কোয়ালিটি সব জায়গায় ভালো পাবেন না। GMVN এর রেস্ট হাউসগুলিতে বিশেষ বিশেষ রুমে গিজারও পেয়ে যাবেন।

এছাড়াও প্রত্যেকটি জায়গায় বেসরকারি হোটেল, লজ্ ও আশ্রম আছে, সেগুলো স্পটে গিয়ে খোঁজ নিয়ে দেখতে হবে।

গাড়ি: ভালো গাড়ি পেয়ে যাবেন হরিদ্বার থেকেই। হরিদ্বারে প্রচুর ট্রান্সপোর্ট এর অফিস আছে, গাড়ি দেখে দরদাম করে গাড়ি নিতে পারেন। ইনোভা জাতীয় গাড়িতে দিন পিছু 3500/- টাকা খরচ আছে।গাড়ি চলুক বা না চলুক যতদিনের ট্যুর থাকবে, দিন হিসাবে গাড়ির ভাড়া দিয়ে যেতে হবে। শেয়ার গাড়িও পাওয়া যায়, তবে সেটা আরামদায়ক হবে না। সরকারি বাসও সব জায়গায় পাবেন না।

কি কি দেখবেন:
এই ট্রাভেল প্লানে কেদারনাথ বদ্রিনাথ বাদে পঞ্চপ্রয়াগ দেখার সুযোগ থাকছে।

প্রথম: দেবপ্রয়াগ – ভাগীরথী ও অলোকানন্দা নদীর সঙ্গম স্থল। এটি যাবার পথেই দেখে নিতে পারেন, তবে ফেরার পথে একরাত্রি থাকলে ভালো লাগবে।

দ্বিতীয়: রুদ্রপ্রয়াগ – অলোকানন্দা ও মন্দাকিনী নদীর সঙ্গমস্থল, এটিও কেদারনাথ যাবার পথে এই জায়গাটি দেখতে পাবেন। এখানে থাকার প্রয়োজন নেই। তবে কেউ চাইলে থাকতেই পারেন, সেটাও ফেরার পথে।

তৃতীয়: কর্ণপ্রয়াগ – এটি অলোকানন্দা ও পিন্ডার নদীর মিলনস্থল। বদ্রিনাথ থেকে ফেরার পথে একদিন থাকতে পারেন।

চতুর্থ: নন্দপ্রয়াগ – অলোকানন্দা ও নন্দাকিনী নদীর সঙ্গমস্থল। এই জায়গাটি ফেরার পথে দেখতে পাবেন।

পঞ্চম: বিষ্ণুপ্রয়াগ – অলোকানন্দা ও ধৌলিগঙ্গা নদীর সঙ্গমস্থল। এই জায়গাটিও অসম্ভব সুন্দর। এটি পাবেন জসিমঠ থেকে বদ্রিনাথ যাবার রাস্তায়। কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে এই অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের রসাস্বাদন করতেই পারেন।

এবারে আসি পঞ্চ কেদারের কোনটি কোনটি আপনারা দেখতে পাবেন: পঞ্চ কেদার হল: কেদারনাথ, তুঙ্গনাথ, রুদ্রনাথ, মধমহেশ্বর ও কল্পেস্বর। এই পাঁচটি কেদার এর মধ্যে এই ট্যুরে কেদারনাথ ও তুঙ্গনাথ দেখার সুযোগ থাকছে। তবে অন্য কেদারগুলি দেখতে হলে আবার অন্য প্লান করে আসতে হবে। কারণ প্রত্যেকটি মন্দিরের কাছে পৌঁছাতে হলে অনেকটা পথ হেঁটে উঠতে হবে। তাই একবারে সব কেদার দেখা সম্ভব নয়, এই যাত্রায় যতটুকু দেখা সম্ভব পুরোটাই জানিয়ে দিলাম।

বেড়ানোর সেরা সময়: অক্টোবর থেকে নভেম্বর দীপাবলি পর্যন্ত।

কলমে: উৎপল নাগ।

উত্তরাখণ্ড ভ্রমণ খরচ,কেদারনাথ ভ্রমণ গাইড,কেদারনাথ মন্দির কোথায় অবস্থিত,হরিদ্বার থেকে কেদারনাথ,কেদারনাথ কবে খুলবে,কেদারনাথ মন্দিরের রহস্য,কেদারনাথ যাত্রা

Leave a Comment