অফিসিয়াল ফোন চেক করার উপায়-মোবাইলের বৈধতা যাচাই করুন

মোবাইল আমাদের জীবনের এক অবিছেদ্য অংশ। মোবাইল ছাড়া জীবন এখন কল্পনাতীত। কিন্তু আপনি কি জানেন আপনার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন টা অফিসিয়াল নাকি আনঅফিশিয়াল। অনেক সময় আমরা দোকান থেকে না জানার কারণে আনঅফিসিয়াল মোবাইল কিনে নিয়ে আসি নিজের অজান্তে, কাজেই আমাদের এটা বের করা উচিত যে আমাদের মোবাইল যেটা আমরা ব্যবহার করতেছি সেটা অফিশিয়াল মোবাইল নাকি আনঅফিসিয়াল মোবাইল।

সবার আগে জানতে হবে অফিসিয়াল মোবাইল আর আনঅফিসিয়াল মোবাইল টা আসলে কি জিনিস।

অফিসিয়াল মোবাইল : যে মোবাইলগুলো সরকারের ট্যাক্স দিয়ে আমাদের দেশে আসছে সেগুলো কে অফিশিয়াল মোবাইল বলে।

আনঅফিসিয়াল মোবাইল: যে মোবাইল গুলো আমাদের দেশের সরকার কে ভ্যাট-ট্যাক্স না দিয়ে আসছে সেগুলোকে আনঅফিসিয়াল মোবাইল বলে।

২০১৮ সালে বিটিআরসি প্রায় ২ কোটি ৭৭ লাখ মোবাইলের অনুমোদন বা নো অবজেকশন সার্টিফিকেট (এনওসি) দিয়েছে। মোট বাজারের ২৫-৩০ শতাংশ অবৈধভাবে আমদানি করা হয়, যার কারণে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ কোটি টাকার রাজস্ব হারায় সরকার। তিনি বলেন, ২০১৮ সালে যত মুঠোফোন আমদানি করা হয়েছে, তার ৬০ শতাংশ ইতিমধ্যে তথ্যভান্ডারে এসেছে। বাকিটা শিগগিরই আসবে।

মোবাইলের বৈধতা যাচাই করার উপায়ঃ

১।আপনার মোবাইল ফোনটি অবৈধ কিনা তা যাচাই করতে প্রথমে হ্যান্ড সেটটির আইএমইআই বের করতে হবে। এটি আপনি মোবাইল ফোনের সঙ্গে থাকা প্যাকেটে বা সেটের কাভার বা ব্যাটারি খুললে পেতে পারেন।

২।এভাবে না পাওয়া গেলে *#০৬# ডায়াল করুন। ডায়াল করতে কোনো খরচ হবে না। এটি ডায়াল করলে সঙ্গে সঙ্গে আপনার ১৫ সংখ্যার আইএমইআই নম্বর দেখতে পাবেন। পরবর্তী ব্যবহারের জন্য নম্বরটি লিখে রাখুন।

৩।সিক্রেট কোড ভেরিকেশানঃপ্রত্যেকটি মোবাইল কোম্পানির প্রতিটি ব্যান্ডের জন্য আলাদা কিছু কোড থাকে।সেই জন্য আপনি গুগলে গিয়ে আপনার মোবাইল কোম্পানির নাম এবং মডেলের নাম লিখে সার্চ করলে সিক্রেট কোড পাবেন।

অফিসিয়াল ফোন চেনার কোড: “KYD <স্পেস> 15-সংখ্যার আইএমইআই নম্বর” এবং 16002 নম্বরে এসএমএস পাঠান”।

পরবর্তী ফিরতি মেসেজে বিটিআরসি জানিয়ে দেবে আপনার মোবাইল ফোনটি বৈধ নাকি অবৈধ। সুতারাং এখনি আপনার ফোন চেক করে নিন সেটি বৈধ নাকি অবৈধ।

ব্যবহৃত মোবাইল হ্যান্ডসেট এর বর্তমান অবস্থা যাচাইয়ের প্রক্রিয়াঃ

ব্যবহৃত মোবাইল হ্যান্ডসেট এর বর্তমান অবস্থা নিঙ্নবর্ণিত পদ্ধতি অনুসরণ করে জানা যাবে-

ধাপ-১: মোবাইল হ্যান্ডসেট হতে *১৬১৬১# নম্বরে ডায়াল করুন।

ধাপ-২: স্কিনে প্রদর্শিত অপশন হতে Status Check অপশন সিলেক্ট করুন।

ধাপ-৩: অটোমেটিক বক্স আসলে হ্যান্ডসেট এর ১৫ ডিজিটের EMI নম্বরটি লিখে প্রেরণ করুন।

ধাপ-৪: হ্যা/না অপশন সম্বলিত একটি অটোমেটিক বক্স আসলে হ্যা Select করে নিশ্চিত করুন।

ধাপ-৫: ফিরতি মেসেজ-এর মাধ্যমে ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের/হ্যান্ডসেটের হালনাগাদ অবস্থা জানানো হবে।

ধাপ-৬: এনইআইআর সম্পর্কিত যে কোন বিষয়ে জানার ক্ষেত্রে করণীয় এনইআইআর সম্পর্কিত কোন বিষয়ে জানার প্রয়োজন হলে বিটিআরসির হেল্পডেস্ক নম্বর ১০০ অথবা মোবাইল অপারেটরগণের কাস্টমার কেয়ার নাম্বার ১২১-এ ডায়াল করে এবং অপারেটরগণের কাস্টমার কেয়ার সেন্টার হতে জানা যাবে।

অফিসিয়াল ফোন চেক করার উপায়

আশা করি উপরের দুটি পদ্ধতি অবলম্বন করে যদি মোবাইল ফোন কিনে থাকেন তাহলে অবশ্যই আপনি অরিজিনাল ফোন কিনতে পারবেন।

বিটিআরসি বলছে, ২০১৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে বৈধভাবে আমদানি অথবা দেশে উৎপাদিত মোবাইলের বেশির ভাগ আইএমইআই নম্বর তথ্যভান্ডারে রয়েছে। এর বাইরে কোনো মোবাইলের আইএমইআই নম্বর আপাতত পাওয়া যাবে না। তবে এখন থেকে যত মোবাইল বৈধভাবে আমদানি বা স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত হবে, তা বিটিআরসির তথ্যভান্ডারে সংরক্ষণ করা হবে।


আনঅফিসিয়াল ফোন অফিসিয়াল করার উপায়,অবৈধ ফোন বৈধ করার উপায়,রিয়েলমি অফিসিয়াল ফোন চেনার উপায়,অফিসিয়াল ও আনঅফিসিয়াল ফোনের পার্থক্য,স্যামসাং অফিসিয়াল ফোন চেনার উপায়,Btrc এর নটিস আন অফিসিয়াল অবৈধ ফোন বন্ধ,আন অফিসিয়াল ফোন চেনার উপায়,মোবাইল ফোন রেজিস্ট্রেশন করার নিয়ম

Leave a Comment